চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে কৃষিজমির মাটি কেটে অবৈধভাবে তৈরি গভীর জলাশয়ে পড়ে দুই শিশুর করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় এ ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৫ এপ্রিল (রবিবার) দুপুরে। মাদরাসা থেকে ছুটির পর বাড়ি ফেরে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের করিম বাড়ির বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের মেয়ে সাকী আক্তার (৯) এবং একই এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে সানজিদা আক্তার (১০)। বাড়ি ফেরার পর তারা পাশের কৃষিজমিতে খেলতে যায়। সেখানে আগে থেকেই মাটি কেটে প্রায় বিশ ফুট গভীর একটি গর্ত তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে বৃষ্টির ও আশপাশের পানি জমে একটি গভীর ডোবা সৃষ্টি হয়।
খেলার সময় অসাবধানতাবশত দুই শিশু ওই পানিভর্তি গর্তে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের খোঁজ না পেয়ে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ওই গভীর গর্ত থেকে দুই শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয় জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
নিহত শিশুদের পরিবার অভিযোগ করে জানায়, তারা আগে থেকেই এলাকায় চলমান অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। তবে প্রভাবশালী চক্র তাদের হুমকি-ধমকি দেয় এবং কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধা দেয়। তাদের দাবি, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবৈধ মাটি উত্তোলন এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার ফল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একই এলাকায় একাধিক স্থানে কৃষিজমি কেটে বড় বড় গর্ত তৈরি করা হয়েছে। এসব গর্তে পানি জমে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এসব স্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী বা সতর্কীকরণ চিহ্ন নেই।
এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ, দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং বিপজ্জনক গর্তগুলো দ্রুত ভরাটের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম |
| তারিখ | ৫ এপ্রিল |
| নিহত শিশু | সাকী আক্তার (৯), সানজিদা আক্তার (১০) |
| ঘটনার ধরন | অবৈধভাবে খননকৃত গভীর গর্তের পানিতে পড়ে মৃত্যু |
| গর্তের গভীরতা | প্রায় ২০ ফুট |
| প্রধান কারণ | অবৈধ মাটি উত্তোলন ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশ |
| বর্তমান অবস্থা | তদন্ত চলমান, জনমনে ক্ষোভ বিরাজমান |
ভূজপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, যদি দ্রুত অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ না করা হয় এবং পূর্বে তৈরি বিপজ্জনক গর্তগুলো ভরাট না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
