ফেসবুক, টিকটকসহ ১৯টি প্ল্যাটফর্মের তথ্য সুরক্ষা, নির্বাচনে অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধে ইইউতে কঠোর আইন। এই আইন ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর পাস হলেও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এত দিন তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। সূত্র: পলিটিেিকা, অনলাইন স্টার।ইইউ ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) নামের এই আইন ভঙ্গকারীকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় করা রাজস্বের ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে অথবা তাদের সেবা বন্ধও করে দেওয়া হতে পারে।
ফেসবুক, টিকটকসহ ১৯টি প্ল্যাটফর্মের তথ্য সুরক্ষা, নির্বাচনে অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধে ইইউতে কঠোর আইন
ফেসবুক, টিকটকের মতো বড় ১৯টি প্ল্যাটফর্মকে শিশু সুরক্ষা ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপ বন্ধে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। ইতোমধ্যে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান তাদের নীতিতে পরিবর্তন এনেছে।গত ২৫ এপ্রিল ইউরোপীয় কমিশন জানায়, যেসব প্ল্যাটফর্মে সাড়ে ৪ কোটির বেশি মাসিক ইইউ গ্রাহক আছে, তাদের সবাইকেই এই আইন মেনে চলতে হবে। ফলে আলীবাবা, আলীএক্সপ্রেস, অ্যামাজন স্টোর, বুকিং ডট কম, ফেসবুক, গুগল প্লে, গুগল ম্যাপস, গুগল শপিং, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, পিনটারেস্ট, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার), উইকিপিডিয়া, ইউটিউব ও জালান্ডোকে এই আইনটি মেনে চলতে হবে।

এই আইনের আওতায় বড় বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাড়তি কিছু কাজও করতে হবে। তাদের দ্বারা সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবেলায় কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাও নিয়মিত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এই আইনের আদলে তাদের নীতি পরিবর্তন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
অনেকেই এরই মধ্যে নীতিগত পরিবর্তন এনেছে।গত জুলাই মাস থেকে ১৩-১৭ বছর বয়সী ইউরোপীয় গ্রাহকদের জন্য তাদের অনলাইন কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে পার্সোনালাইজড বিজ্ঞাপন দেখানো বন্ধ করেছে টিকটক।ফেব্রুয়ারি থেকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামেও একই নীতি অনুসরণ করছে মেটা।ইউরোপের ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের কেবলমাত্র তারা যাদেরকে অনুসরণ করে, তাদের স্টোরি এবং রিলস দেখার অপশন দিয়েছে।
গবেষকদের সঙ্গে আরও বেশি তথ্য ভাগাভাগির ঘোষণাও এসেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে। গুগল অঙ্গীকার করেছে তাদের সার্চ ইঞ্জিন, ইউটিউব, ম্যাপস, গুগল প্লে এবং শপিং কী ভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য সরবরাহ করবে।তবে অনেকেই এখনো প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সম্পন্ন করেনি। এক্স, যেটি আগে টুইটার নামে পরিচিত ছিল, বলেছে তারা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজটি শেষ করার ‘পথে রয়েছে’।অ্যামাজনও তাদের প্ল্যাটফর্মের সন্দেহজনক অবৈধ পণ্য ও কনটেন্ট সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাওয়ার নতুন চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেছে। আরেক অনলাইন প্রতিষ্ঠান জালান্ডো বলেছে, তারাও আইনটি মেনে চলবে।