প্রিমিয়ার লিগে সর্বাধিক ম্যাচে অংশগ্রহণকারী মিলনার

ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে আজ মাঠে নামার পর জেমস মিলনার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখলেন। গ্যারেথ ব্যারির রেকর্ড অতিক্রম করে মিলনার এখন সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় হিসেবে শীর্ষে অবস্থান করছেন। ইউরোপের শীর্ষ এই লিগে মিলনারের মোট খেলা ম্যাচের সংখ্যা এখন ৬৫৪, যা তাকে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্যতম কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে।

মিলনারের ক্লাব ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান

জেমস মিলনারের পেশাদার ক্যারিয়ার ছয়টি ক্লাবে ছড়িয়ে আছে। ৪০ বছর বয়সেও ব্রাইটনের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার হিসেবে তিনি দাপট দেখাচ্ছেন। মিলনার কোন ক্লাবে কত ম্যাচ খেলেছেন তা নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

ক্লাবখেলা ম্যাচমেয়াদ
লিভারপুল৩৩২৮ বছর
ম্যানচেস্টার সিটি১৪৭৪ বছর
অ্যাস্টন ভিলা১০০৩ বছর
নিউক্যাসল৯৪২ বছর
লিডস ইউনাইটেড৪৮২ বছর
ব্রাইটন৩৫১ বছর

মিলনারের ক্যারিয়ারে তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা রয়েছে। দুটি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এবং একটি লিভারপুলে ইয়ুর্গেন ক্লপের অধীনে জিতেছেন তিনি।

প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড ও পরিসংখ্যান

মিলনারের পর সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় রয়েছেন:

অবস্থানখেলোয়াড়খেলা ম্যাচ
জেমস মিলনার৬৫৪
রায়ান গিগস৬৩২
ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড৬০৯
ডেভিড জেমস৫৭২
মার্ক শোয়ার্জার৫৪৪
গ্যারি স্পিড৫৩৫
এমিল হেস্কি৫১৬
জেমি ক্যারাগার৫০৮
ফিল নেভিল৫০৫

মিলনার কেবল ধারাবাহিক খেলোয়াড়ই নন, কার্যকরও। প্রিমিয়ার লিগে তাঁর ৫৬টি গোল এবং ৯০টি অ্যাসিস্ট রয়েছে। ২৩ বছরেরও আগে, ২০০২ সালের ডিসেম্বরে লিডস ইউনাইটেডের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে বক্সিং ডে’তে ১৬ বছর ৩৫৬ দিন বয়সে প্রথম গোল করেছিলেন মিলনার। এটি প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে গোল করার রেকর্ড।

মাঠে খেলার পরিসংখ্যান

ইএসপিএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগে ৬৫৩টি ম্যাচে মিলনার মোট ৩৮,৩৬১ মিনিট খেলেছেন, যা প্রায় ৬৩৮ ঘন্টা বা ২৬.৬ দিন সমান। তিনি এই সময়ে মোট ৫,৪১৪,৩২৬ মিটার (৩,৩৬৪ মাইল) দৌড়েছেন। প্রতি ম্যাচে গড়ে ৮.২৯ কিমি (৫.১৫ মাইল) দৌড়ানোর হিসাব দেখা যায়, যা প্রায় একটি ফুটবল মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ৮০ বার দৌড়ানোর সমান।

কিশোর প্রতিভা থেকে পেশাদারিত্বের আইকন জেমস মিলনার তার অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শীর্ষে থাকার দারুণ নজির স্থাপন করেছেন। ৪০ বছর বয়সেও তিনি প্রমাণ করেছেন যে অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা মিলিয়ে একজন খেলোয়াড় কতদূর যেতে পারে।