প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে দশটি শনিবার

শিখন ক্ষয় পূরণের উদ্দেশ্যে চলতি বছরের রমজান মাসজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ১০টি শনিবার খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রমজানকালীন ছুটির কারণে ঘটে যাওয়া শিক্ষার ঘাটতি পূরণ করতে পারবে এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক মো. অয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, রমজান মাসে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের অভাবে শিক্ষার ক্ষয় ঘটেছে। তাই রমজানের ছুটি শেষে বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিকক্ষে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পরবর্তী ১০টি শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের শিখন ক্ষয় পূরণ করতে পারবে এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

মন্ত্রণালয় সকল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে, বিদ্যালয় খোলার আগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া বিদ্যালয়ের ছুটি পুনঃনির্ধারণ, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা এবং পাঠদান সূচি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বিদ্যালয় খোলার পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
লক্ষ্যরমজান মাসজুড়ে শিখন ক্ষয় পূরণ
কার্যক্রম১০টি শনিবার বিদ্যালয় খোলা, পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা
প্রযোজ্য বিদ্যালয়সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ
নির্দেশপ্রদান কর্তৃপক্ষপ্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপপরিচালক মো. অয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত
কার্যক্রমের সময়কালরমজানের ছুটি শেষ হওয়া থেকে পরবর্তী ১০টি শনিবার পর্যন্ত
প্রস্তুতিশিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি নিশ্চিতকরণ, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা ও পাঠদান সূচি পুনর্গঠন
প্রাপকেরাজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রমজান মাসে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান ও পাঠ্যক্রমে ক্ষতি হতে পারে। তাই শনিবার খোলার এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের জন্য সমন্বিত ও সুফলপ্রদ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী শিখন কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ছাড়াই অংশগ্রহণ করতে পারবে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

উক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীর সামগ্রিক জ্ঞান বৃদ্ধি করা এবং শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এটি স্থানীয় বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।