আজ সন্ধ্যা থেকে প্রভাব শুরু করবে ঘূর্ণিঝড় মোকা। ভয়ানক গতিতে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোকা। বেশ শক্তি নিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানবে তা অনেকটা নিশ্চিত। এরইমধ্যে জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, মোকার প্রভাবে ঘণ্টায় বাতাসের গড় গতিবেগ দমকা হাওয়াসহ ২৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। এতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা উপকূলে প্রলয় তাণ্ডবের আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, ভয়ংকর গতিতে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে মোকা। আগামীকাল রবিবার সকাল নাগাদ ঝড়ের অগ্রভাগ আঘাত হানতে শুরু করবে কক্সবাজার-টেকনাফ ও মিয়ানমারের কিয়াউকপিউয়ের মধ্যবর্তী ভূভাগে। আমেরিকার জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারে সর্বশেষ বুলেটিনে ১৫-২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা করা হয়েছে।
আজ সন্ধ্যা থেকে প্রভাব শুরু করবে ঘূর্ণিঝড় মোকা
গতকাল শুক্রবার বিকাল থেকে উপকূলভাগে আকাশ মেঘলা করে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সৈকতে ঢেউ বাড়ছে। টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার বলছে, আঘাতের সময় ২০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে মোকার ঘূর্ণিবাতাসের শক্তি। এদিকে উপকূলভাগের মানুষজন ঘূর্ণিঝড় ও প্রবল জলোচ্ছাসের আতংকের আবর্তে পড়েছেন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বেড়িবাধ নেই সেখানকার লোকজন বেশি আতংকিত। সরকার ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে।
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোকা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি গত মধ্যরাতে (১২ মে) চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯৫ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৩০ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এটি আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে ১৪ মে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কক্সবাজার-উত্তর মায়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ১৩ মে সন্ধ্যা থেকে কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোকা’ এর অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৭০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুদ্ধ রয়েছে। এজন্য কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৮ (আট) নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৪ (চার) নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৮ (আট) নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
এছাড়া, ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। এজন্য উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
