প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। তারা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে অর্থ পাঠান, যা পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করে। কিন্তু প্রবাসীর হৃদয়ে জমে থাকা নিঃসঙ্গতা, একাকীত্ব এবং মায়ের জন্যে আকুলতা—সেসব অনুভূতি আমরা কতটুকু বুঝতে পারি? সেই অদেখা আবেগকে এবার সঙ্গীতের মাধ্যমে জীবন্ত করে তুলেছে লোকগানের দল ‘বাউলা’। তাদের নতুন গান ‘বিদেশ আমার ভাল্লাগে না, মা’ আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে বাউলা বাংলাদেশ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে।
গানটির প্রধান কণ্ঠ দিয়েছেন বাউলা ব্যান্ডের প্রকাশ আর্টিস্ট, যার কণ্ঠে উঠে এসেছে এক অভিমানী সন্তানের মায়ের প্রতি আন্তরিক আর্তি: “মা, বিদেশ আমার ভাল্লাগে না।” গানটির কথার রচনা ও সুরারোপ করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক সাইফুল ইসলাম মান্নু, যিনি প্রবাসী জীবনের টানাপোড়েন এবং শারীরিক দূরত্বের মধ্যে আবেগের গভীরতা ফুটিয়ে তুলেছেন।
গানটির সঙ্গীতায়োজন ও বাজানো নিম্নরূপ:
| বাদ্যযন্ত্র | শিল্পী/বাদ্যকার |
|---|---|
| হারমোনিয়াম | রবিন সরকার |
| ঢোলে | মাসুম ও সাঈদ আহম্মেদ |
| বাঁশি | আশিকুল |
| গিটার | ইকে মজুমদার ইস্তি |
| বেজ গিটার | অনুপ |
| পারকাশন | সোহেল |
সংগীতায়োজন করেছেন রবিন সরকার ও ইকে মজুমদার ইস্তি, আর চিত্রপরিচালনায় ছিলেন রাইসুল ইসলাম অনিক।
প্রকাশ আর্টিস্ট জানান, “‘বিদেশ আমার ভাল্লাগে না, মা’ কেবল একটি গান নয়; এটি প্রবাসজীবনের নিঃসঙ্গ সন্ধ্যা, ভিডিও কলে মায়ের মুখ দেখার সময় চুপচাপ চোখ মুছে নেওয়া এক সন্তানের গল্প। এটি ব্যস্ত নগরীর কোলাহলে দাঁড়িয়ে গ্রামের শিউলি-ঝরা ভোরের স্মৃতির আকুতি।”
গানটি প্রবাসীদের আবেগ, মায়ের প্রতি অন্তর্নিহিত ভালোবাসা এবং বিদেশে থাকা একাকীত্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। এটি এমন একটি কণ্ঠস্বর, যা প্রতিটি প্রবাসী পরিবারের হৃদয়ে স্পর্শ করবে।
এটি শুধুমাত্র বাউলা দলের নতুন সঙ্গীত প্রকাশ নয়; এটি সামাজিক বার্তা বহন করছে—প্রবাসীর জীবনেও অনুভূতি ও নরম আবেগের জায়গা আছে, যা কখনও কণ্ঠহীন চিৎকারে প্রকাশ পায়। গানের সুর এবং লোকজ আবেগ মিলিয়ে প্রবাসী সন্তানের মায়ের প্রতি আকুতি জীবন্তভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
প্রকাশের পর গানটি ইতিমধ্যেই দর্শক ও শোনার মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, বিশেষ করে প্রবাসী পরিবার এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। এটি বাংলাদেশের লোকগানধারার মধ্যে প্রবাসী জীবনের গল্প বলার নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গানের মাধ্যমে বাউলা দল আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে—প্রবাসী জীবনের যন্ত্রণাও শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশযোগ্য এবং সেই অনুভূতি দেশের মানুষকে কাছে নিয়ে আসে।
