বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী হাই কোর্ট বিভাগের সকল বিচারপতিকে নিয়ে বিশেষ ফুলকোর্ট সভা আহ্বান করেছেন। সভাটি আগামী সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিকেল ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে। এই সভার মাধ্যমে হাই কোর্ট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি, প্রশাসনিক এবং বিচার সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হবে।
সভা আহ্বানের তথ্য গত ৩ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মোঃ মেসবাহ্ উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, এই সভায় হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে:
“বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মহোদয়গণের অংশগ্রহণে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) বিকাল ৪টা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে।”
ফুলকোর্ট সভা সাধারণত বিচারপতিদের জন্য এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে হাই কোর্ট বিভাগের সকল বিচারপতি একত্রিত হয়ে চলমান বিচারিক কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক নীতি, এবং আদালতের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। এটি মূলত বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রশাসনিক সঙ্গতি নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ।
হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের সংখ্যা ও তাদের দায়িত্বের একটি সংক্ষিপ্ত তথ্য নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:
| বিচারপতি শ্রেণি | মোট সংখ্যা | দায়িত্বের ক্ষেত্র |
|---|---|---|
| সিনিয়র বিচারপতি | ১৫ | প্রধান মামলা ও প্রশাসনিক তত্ত্বাবধান |
| যুক্ত বিচারপতি | ২০ | সাধারণ মামলা, বিশেষ মামলা ও আপিল নিষ্পত্তি |
| স্থায়ী বিচারপতি | ১০ | বিভাগীয় তত্ত্বাবধান ও প্রশাসনিক সহায়তা |
ফুলকোর্ট সভার আলোচ্যসূচি সাধারণত থাকে:
চলমান মামলার অগ্রগতি এবং গুরুত্বপূর্ন আপিল বিষয়ক আপডেট।
আদালতের প্রশাসনিক কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন।
বিচারিক নীতিমালা ও নিয়মাবলী পর্যালোচনা।
নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ডিজিটালাইজেশন বিষয়ক প্রস্তাবনা।
বিচারপতি ও আদালত কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিকল্পনা।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান বিচারপতির আহ্বানে এই সভা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে, চলমান আইনি সংস্কার এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ফুলকোর্ট সভা সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সিদ্ধান্তগুলো আদালতের কার্যক্রম ও বিচারিক নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।
