বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং এক তরুণীকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল পুনরায় জামিন পেয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি, এই আদেশের ফলে তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আনাননিয়া শবনম রোজ নামে এক তরুণী গত বছরের ১৩ আগস্ট রাজধানীর আদালতে নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নোবেলের মা, স্ত্রী, এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ব্যক্তিগত সহকারী। অভিযোগে বলা হয়, নোবেল ভুক্তভোগীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের আশ্বাস দেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন। পরবর্তীতে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির অনুসন্ধান চালায়। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়। এর ভিত্তিতে ২ ফেব্রুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন আদালতে হাজির করা হলে আপসের শর্তে তাকে জামিন দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ ওঠে, জামিন পাওয়ার পর তিনি পুনরায় ভুক্তভোগীর ওপর নির্যাতন চালান। এই পরিস্থিতিতে আপসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ এনে বাদীপক্ষ আদালতে আবেদন করলে ২ এপ্রিল বিচারক তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সর্বশেষ শুনানিতে আদালত পুনরায় বিষয়টি বিবেচনা করে শর্তসাপেক্ষে তাকে আবারও জামিন প্রদান করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে পরবর্তী বছরের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, আপত্তিকর ছবি ধারণের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
নিচে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১৩ আগস্ট | মামলা দায়ের |
| ৭ জানুয়ারি | তদন্ত প্রতিবেদন জমা |
| ২ ফেব্রুয়ারি | গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি |
| ২৩ ফেব্রুয়ারি | নোবেলের গ্রেপ্তার |
| ২৪ ফেব্রুয়ারি | প্রথম দফায় জামিন |
| ২ এপ্রিল | জামিন বাতিল |
| ৫ এপ্রিল | পুনরায় জামিন মঞ্জুর |
আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মামলাটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ, জবানবন্দি এবং বিচারিক শুনানির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী অভিযুক্তদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।
