পোষ্য কুকুরকে কেন্দ্র করে বিয়েবাড়িতে রণক্ষেত্র: জয়ী ভালোবাসা

ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর জেলায় একটি আনন্দমুখর বিয়ের উৎসব মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কনের অত্যন্ত প্রিয় পোষ্য কুকুরকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শুরু হওয়া সামান্য বিবাদ শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে সামাজিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে গেলেও, শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার টানে নাটকীয়ভাবে কনে তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে পৌঁছেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আকস্মিক সংঘর্ষ

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ফতেহপুর জেলার একটি ম্যারেজ হলে। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা তানিয়া কেশরওয়ানি এবং কানপুরের যুবক সুমিতের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল সেখানে। উল্লেখ্য যে, তানিয়া ও সুমিত গত জানুয়ারি মাসে নিজেদের পছন্দে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন। পরবর্তীতে দুই পরিবারের সম্মতিতে একটি আনুষ্ঠানিক সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

বিয়ের সকল আচার যখন প্রায় শেষের দিকে, ঠিক ভোর চারটা নাগাদ গয়না দেওয়ার অনুষ্ঠান চলাকালীন তানিয়ার পোষ্য কুকুরটি হঠাৎ চিৎকার শুরু করে। এতে বরপক্ষের এক যুবক বিরক্ত হয়ে কুকুরটিকে সজোরে আঘাত করেন। কনেপক্ষ এই আচরণের প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ

সামান্য কথা-কাটাকাটি থেকে শুরু হওয়া এই বিবাদ মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিয়েতে আসা অতিথিরা লাঠি, লোহার রড এবং চেয়ার নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এতে নারীসহ অন্তত আটজন আহত হন। সংঘর্ষের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, কনেপক্ষের তিনজনের মাথায় গুরুতর চোট লাগে এবং তাদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
কনের নাম ও বাসস্থানতানিয়া কেশরওয়ানি (প্রয়াগরাজ)
বরের নাম ও বাসস্থানসুমিত (কানপুর)
বিবাদের সূত্রপাতকনের পোষ্য কুকুরকে আঘাত করা
সংঘর্ষের সময়১৮ ফেব্রুয়ারি, ভোর ৪টা
আহতদের সংখ্যাঅন্তত ৮ জন (নারীসহ)
পুলিশি পদক্ষেপখাগা থানায় মামলা ও অভিযোগ দায়ের
সামাজিক সিদ্ধান্তদুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে বাতিল

চূড়ান্ত পরিণতি ও ভালোবাসার জয়

সংঘর্ষের পর দুই পরিবার খাগা থানায় পৌঁছে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে এবং সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় যে, তিক্ততা বাড়ার কারণে এই বিয়ে আর সম্ভব নয়। তবে পরিবারের এই চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত তানিয়া মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারেননি। অনুষ্ঠানের পাঁচ দিন পর তিনি সাহসের পরিচয় দিয়ে একা প্রয়াগরাজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কানপুরে সুমিতের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন।

শুরুতে সুমিতের পরিবার তানিয়াকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তানিয়া স্বামীর সঙ্গে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে জানান যে, তাদের আইনি বিয়ে আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং ফতেহপুরের ঘটনাটি ছিল কেবল একটি অনুষ্ঠান মাত্র। কোনো ঝগড়া বা সংঘাত তাদের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত সামাজিক বাধা কাটিয়ে তানিয়া তার শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন এবং সুমিতের পরিবার তাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। এই ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।