রান্নায় পেঁয়াজ ও রসুনের ব্যবহার কেবল খাবারের স্বাদ বা সুগন্ধ বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো শরীরের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ভেষজ হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পেঁয়াজ ও রসুন খেলে শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। তবে রসুনের পূর্ণ উপকার পেতে তা খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি জানা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, রসুন কাটার বা থেঁতলে নেওয়ার পর অন্তত ১০ মিনিট রেখে দিলে এর ভেতরে থাকা ‘অ্যালিসিন’ নামক উপাদানটি সক্রিয় হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।
এমস ও হার্ভার্ড প্রশিক্ষিত প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. সৌরভ শেঠি জানিয়েছেন, পেঁয়াজ ও রসুন মূলত অ্যালিয়াম পরিবারের সদস্য। এগুলো শরীরের লিভারের ডিটক্স বা বিষমুক্তকরণ প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে এবং রক্ত থেকে ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সহায়তা করে। এছাড়া এই সবজিগুলো অন্ত্রের উপকারি ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, যা শরীরের সামগ্রিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলে। পেঁয়াজ ও রসুনে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে ক্যানসার নিরোধক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
বিজ্ঞানীদের মতে, পেঁয়াজ ও রসুনে থাকা অর্গানোসালফার যৌগ—যেমন অ্যালিসিন, ডায়ালিল সালফাইড ও ডায়ালিল ডিসালফাইড—ক্যানসার কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রুখতে সক্ষম। নিয়মিত এই উপাদানগুলো গ্রহণ করলে টিউমারের সম্ভাবনা অনেকাংশে হ্রাস পায়। ২০১৬ সালে আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ক্যানসার রিসার্চ রসুনকে ‘ফুড দ্যাট ফাইট ক্যানসার’ বা ক্যানসাররোধী খাবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। লাল পেঁয়াজ, ছোট পেঁয়াজ, পেঁয়াজকলি ও পেঁয়াজ শাকও বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যাল সমৃদ্ধ, যা টিউমার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্যানসারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত পেঁয়াজ-রসুন খাওয়া প্রস্টেট, পাকস্থলী, বৃহদন্ত্র (কোলোরেক্টাল), খাদ্যনালি এবং স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে অভাবনীয়ভাবে কার্যকর। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে কাঁচা বা সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করা পেঁয়াজ ও রসুন রাখা বাঞ্ছনীয়।
জিলাইভ/টিএসএন
