পৃথিবী ৮০ সেন্টিমিটার হেলে গেছে!

পৃথিবী ৮০ সেন্টিমিটার হেলে গেছে! গভীর সমুদ্র, অতলান্ত মহাসাগরে দিগভ্রান্ত হচ্ছেন নাবিকরা! আর কিছুদিনের মধ্যে হয়ত আকাশে বিমানচালকরাও দিশা ভুল করবেন। বিস্তর ভুলভ্রান্তি হবে স্মার্টফোনে দেখানো গুগলের ম্যাপেও। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাথা বিগড়ে গেছে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের। দুই মেরুও তাদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে গেছে। পৃথিবীর তার কক্ষপথে ঘোরার সময় ৮০ সেন্টিমিটার পূর্বে হেলে গেছে। ফলে এতদিনের সব হিসেবনিকেশই গুলিয়ে গেছে। ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার’-এ পৃথিবীর দুই মেরুর এই দিক বদলের কারণ বলেছেন দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৯৯৩ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রতি বছর পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে ৪.৩৬ সেন্টিমিটার বেগে দুই মেরুর অবস্থান বদলে গেছে। পৃথিবীর দুই মেরু – সুমেরু ও কুমেরু (আর্কটিক ও আন্টার্কটিক) ৬৪.১৬ ডিগ্রি পূর্বে সরে গেছে। ফলে পৃথিবী তার কক্ষপথে ঘোরার সময় ৮০ সেন্টিমিটার পূর্বে হেলে গেছে।

 

পৃথিবী ৮০ সেন্টিমিটার হেলে গেছে!

পৃথিবী ৮০ সেন্টিমিটার হেলে গেছে!

জলবায়ু বদলের কারণ খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এই নতুন তথ্য হাতে পেয়েছেন, যা চিন্তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এইসবের কারণই বলে ভূগর্ভস্থ জলস্তর হু হু করে কমছে। মানুষ তার প্রয়োজনে এত বেশি ভূর্গভস্থ পানি ব্যবহার করছে, যে মাটির নীচের পানির স্তরের ভারসাম্য বিগড়ে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে ভূগর্ভের অভ্যন্তরের গঠন।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কতটা কমছে তার সঠিক হিসেব এখনও পাওয়া যায়নি। তবে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা প্রামিকভাবে অনুমান করেছেন, ২ হাজার ১৫০ গিগাটন ভূগর্ভস্থ পানি মাটির নিচে থেকে বের করা হয়েছে।

 

 

পৃথিবী ৮০ সেন্টিমিটার হেলে গেছে!

 

 

ভূপদার্থবিদরা বলছেন, পৃথিবীর পেটের ভেতরে যে চৌম্বকক্ষেত্র রয়েছে তার ভূমিকা বিরাট। ওই চৌম্বক ক্ষেত্রটা তৈরি হয় মূলত পৃথিবীর ভিতরে থাকা গনগনে তরল লোহার স্রোতের জন্য। সেই লোহার সঙ্গে রয়েছে আরও কিছু পদার্থ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্রোত কখনও যায় এ দিকে। কখনও-বা ও দিকে। তাছাড়া মাটির নীচের যে জলের স্তর আছে তাও সমানভাবে বিস্তৃত, ফলে পৃথিবীর ভরের ভারসাম্য বজায় থাকে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ভূগর্ভের সেই জলস্তর কমে যাচ্ছে। যে দেশে সবচেয়ে বেশি জল ব্যবহার করা হচ্ছে, সেখানে মাটির নিচের পানির ভাণ্ডার কার্যত শূন্য হয়ে যাচ্ছে। ফলে পৃথিবীর অন্দরে থাকা তরল লোহা ও তরল অবস্থায় থাকা অন্যান্য পদার্থের স্রোতের ভারসাম্যে অদলবদল হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, এই কারণেই ভূগর্ভের অভ্যন্তরীণ অবস্থান ও পৃথিবীর ভরের ভারসাম্য বিগড়ে যাচ্ছে।

Leave a Comment