সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি বর্তমানে জেমিনি নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থান করছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, আগামী দুই দিনের মধ্যে এই বিশাল গ্রহটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছাবে। ফলে রাতের আকাশে এটি অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হবে, যা মহাকাশপ্রেমীদের জন্য একটি বিরল সুযোগ।
বাংলাদেশ সময় ১০ জানুয়ারি দিবাগত রাত দুইটায় বৃহস্পতিকে আকাশে দেখা যাবে। সেই সময় গ্রহটি মূলত দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র কাস্টর এবং পোলক্স-এর সঙ্গে একটি অসম ত্রিভুজ তৈরি করবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, সেই সময়ে বৃহস্পতির দূরত্ব পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৩ কোটি ৩০ লাখ কিলোমিটার হবে।
বৃহস্পতির এবং সূর্যের আলো সংক্রান্ত তথ্য নিম্নরূপ:
| বিষয় | সময়/দূরত্ব |
|---|---|
| সূর্য থেকে বৃহস্পতিতে আলো পৌঁছানোর সময় | প্রায় ৪৩ মিনিট |
| বৃহস্পতির আলো পৃথিবীতে পৌঁছানোর সময় | প্রায় ৩৫ মিনিট |
| বৃহস্পতির দূরত্ব পৃথিবী থেকে | প্রায় ৬৩ কোটি ৩০ লাখ কিমি |
| বৃহস্পতির ব্যাসার্ধ | পৃথিবীর তুলনায় ১১ গুণ বড় |
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, খালি চোখেই বৃহস্পতিকে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। সাধারণ মানের বাইনোকুলার ব্যবহার করলেও গ্রহের চারটি বৃহত্তম চাঁদ আইও, ইউরোপা, গ্যানিমেড এবং ক্যালিস্টো দেখা সম্ভব হবে। এছাড়া, ছোট টেলিস্কোপ বা ১০ গুণ জুমের বাইনোকুলারের মাধ্যমে বৃহস্পতির বিখ্যাত রঙিন মেঘের স্তরও সহজে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
বৃহস্পতির উজ্জ্বলতার মূল কারণ হলো এর ঘন মেঘের স্তর, যা প্রচুর পরিমাণে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করতে সক্ষম। যদিও বৃহস্পতি শুক্র গ্রহের তুলনায় অনেক দূরে, এই প্রতিফলন শক্তির কারণে এটি আকাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল মনে হবে।
বৃহস্পতিকে পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে দেখা যাবে। বিশেষভাবে আকাশপ্রেমীরা আকাশের এই প্রদর্শনীটি মিস না করার পরামর্শ দিচ্ছেন, কারণ এটি প্রতি বছর নয়, বরং কয়েক বছর অন্তরই পৃথিবীর কাছে এতটা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই সময় পর্যবেক্ষণ করলে গ্রহের বায়ুমণ্ডলীয় গ্যাসের স্তর, মেঘের ঢাল এবং বৃহৎ বৃত্তাকার চাঁদগুলো ভালোভাবে দেখা সম্ভব হবে। তাই রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণকে মহাকাশপ্রেমীদের জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
