২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত পুলিশ হত্যার ঘটনাবলি ও এর বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলোর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যে পুনঃতদন্তের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সেটিই যৌক্তিক এবং সরকার সেই পথেই হাঁটবে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার চারতলা নতুন ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।
Table of Contents
তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের অবস্থান
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিপূর্বে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিই সরকারের দাপ্তরিক ও সঠিক অবস্থান। যেহেতু এই বিষয়গুলো নিয়ে ইতিপূর্বে তদন্ত হয়েছে, তাই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে আবারও তদন্ত বা পুনঃতদন্ত করা হবে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন প্রক্রিয়াভুক্ত, তাই এ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে নতুন কোনো মন্তব্য করার অবকাশ নেই।” এনসিপি নেতাদের ‘মীমাংসিত বিষয়’ সংক্রান্ত দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন যে, কোনো স্পর্শকাতর বিষয় কেবল মুখের কথায় মীমাংসা হয় না, বরং তা যথাযথ আইন ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন।
গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের অধীনে গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। মন্ত্রী তার বক্তব্যে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করেন:
| আলোচনার মূল বিষয় | সরকারের অবস্থান ও গৃহীত পদক্ষেপ |
| স্থানীয় সরকার নির্বাচন | সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়ে এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। |
| গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ | অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা হবে। |
| আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি | গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক। |
| জুলাই অভ্যুত্থানের তদন্ত | ছাত্র-জনতা ও পুলিশ হত্যাসহ প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের বিচার করা হবে। |
মন্ত্রী হিসেবে নিজ এলাকায় প্রথম সফর ও আবেগ
বিএনপি সরকার গঠন করার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে এটি ছিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। সকালে বিমানে সৈয়দপুর পৌঁছে সড়কপথে নিজ বাসভবনে আসার সময় রাস্তার দুই পাশে সাধারণ জনতার উপচে পড়া ভিড় তাকে মুগ্ধ করে। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের কাছে আমি চিরঋণী। তাদের অকুন্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসার কারণেই আজ আমি এই গুরুদায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছি। আমরা সকলে মিলে একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
দিনের কর্মসূচি ও উপস্থিতি
মাদরাসার চারতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে মন্ত্রী বিকেলে পৌর শহরের গোবিন্দনগরে উন্নয়ন সংস্থা ‘ইএসডিও’ (ESDO)-র ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। উল্লেখ্য, এই সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন স্বয়ং মির্জা ফখরুল। অনুষ্ঠানে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নাজমুল হক সুমন, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলীসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বিকেলে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন এবং উপস্থিত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন। নতুন মন্ত্রীর এই সফর ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে যেমন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে, তেমনি স্থানীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
