পুলিশ প্রতিবন্ধকতার অভিযোগে জামিন পেলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা মাহদী হাসান

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সম্পাদক মাহদী হাসান রবিবার জামিন পেয়েছেন। তিনি পুলিশকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার হন। তার জামিন শুনানি সোমবার সকাল ৮:৩০ মিনিটে হবিগঞ্জ যুগ্ম বিচারক আদালতে অনুষ্ঠিত হয় এবং সকাল ১০:০০ মিনিটে শুনানি সম্পন্ন হয়ে জামিন মঞ্জুর করা হয়।

মাহদী হাসানের গ্রেপ্তারের পর শতাধিক ছাত্রনেতা ও আন্দোলনকারী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা প্রাঙ্গণে অবস্থান গ্রহণ করেন। তারা রাতভর শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে আদালতের দ্রুত জামিন প্রক্রিয়ার দাবি জানান। যেহেতু রাতের সময়ে আদালত খোলা ছিল না, তাই পরের দিন সকালে মামলাটি পুনরায় কার্যক্রমে আনা হয়।

এই ঘটনার সূত্রপাত শহরের একটি পূর্ববর্তী গ্রেপ্তারের সঙ্গে জড়িত। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এনামুল হাসান, শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, স্থানীয় পুলিশ কর্তৃক নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক হন। এর প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও কর্মীরা শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করে, যেখানে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একটি দল থানা অফিসার ইন-চার্জের কক্ষে অবস্থান নেয়।

প্রধান তথ্যগুলো নিচের টেবিলে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

নামপদবীগ্রেপ্তারের তারিখ ও সময়অভিযোগজামিন তারিখ ও সময়আদালত/থানা
মাহদী হাসানজেলা সম্পাদক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন03 জানুয়ারি 2026, রাতপুলিশ বাধা প্রদান04 জানুয়ারি 2026, 10:00 a.m.হবিগঞ্জ যুগ্ম বিচারক আদালত
এনামুল হাসানসহ-সভাপতি, শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ01 জানুয়ারি 2026, মধ্যরাতনিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের কর্মকাণ্ডে যুক্তশায়েস্তাগঞ্জ থানা

এই ঘটনার পর হবিগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্থানীয় ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রভাব আরও দৃঢ় হয়েছে। স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, যা প্রশাসন ও পুলিশের স্থানীয় বিক্ষোভ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় উপস্থিতি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থা গ্রহণে প্ররোচিত করবে।

মাহদী হাসানের জামিনকে আন্দোলনকারীরা একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। এটি ছাত্রনেতাদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। জেলার সাধারণ বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সহিংসতা কমে যাবে এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাবে।