সিরাজগঞ্জে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ‘ঈদ সম্মানী’ নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বার্তা আদানপ্রদানের মাধ্যমে তারা নিজেদের জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে শাড়ি ও লুঙ্গি ব্যবসায়ীদের কাছে অর্থ দাবি করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন বাজারে শাড়ি ও লুঙ্গি ব্যবসায়ীদের কাছে একটি নম্বর থেকে বার্তা পাঠানো হচ্ছিল। সেখানে প্রেরক নিজেকে জেলার পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ‘সম্মানী’ দেওয়ার অনুরোধ জানাতেন। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত অর্থ পাঠানোর জন্যও চাপ দেওয়া হতো।
পুলিশ জানায়, বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কয়েকজন ব্যবসায়ী স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বার্তার উৎস শনাক্ত করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে পৃথক অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শেরপুর থানার কৃষ্ণপুর নামাপাড়া এলাকার আমজাদের ছেলে সোহেল মিয়া (৩৪), শেরপুর থানার খানপুর এলাকার মৃত রমজান আকন্দের ছেলে বাদশা আকন্দ (৫০) এবং একই থানার খানপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রিপন (২২)।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তারা জেলার পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করার চেষ্টা করতেন। পরে উৎসবের সময়কে লক্ষ্য করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করতেন।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন এবং নগদ তিন হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা মুঠোফোনগুলোতে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতারণা চক্রটির আরও সদস্য রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধার করা সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো—
| উদ্ধারকৃত সামগ্রী | সংখ্যা |
|---|---|
| অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন | ১টি |
| স্যামসাং মুঠোফোন | ১টি |
| নগদ অর্থ | ৩,০০০ টাকা |
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে নানা ধরনের প্রতারণা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তাই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ দাবি করা হলে সেটি যাচাই না করে অর্থ লেনদেন না করার জন্য তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ মনে করছে, সময়মতো অভিযোগ পাওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সচেতনতা বাড়লে এ ধরনের প্রতারণা রোধ করা আরও সহজ হবে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশা প্রকাশ করেছে।
