হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আপন ভাই ও বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার মাইজের মহল্লায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পরিবারটি গভীর শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে।
নিহতরা হলেন ওই এলাকার লিটন মিয়ার কন্যা সাদিয়া আক্তার (৬) এবং পুত্র জুবায়েল মিয়া (৪)। তারা খেলাধুলার ফাঁকে অসাবধানতাবশত বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশুরা বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুরপাড়ে খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে অসতর্ক মুহূর্তে তারা পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সময় শিশুরা বাড়ির আশপাশেই খেলছিল। মুহূর্তের অসাবধানতায় এমন দুর্ঘটনা ঘটে যায়, যা কেউ কল্পনাও করেনি। শিশু দুটির মৃত্যুতে পুরো গ্রামজুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে ভিড় করছেন, কিন্তু সন্তান হারানোর বেদনায় পরিবারটি ভেঙে পড়েছে।
একই পরিবারের দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। বাবা-মা একসঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে পুকুরপাড়ে আরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ ধরনের দুর্ঘটনা গ্রামীণ এলাকায় তুলনামূলকভাবে বেশি ঘটে থাকে, বিশেষ করে যেখানে বাড়ির কাছেই খোলা পুকুর বা জলাশয় থাকে এবং শিশুদের পর্যবেক্ষণের ঘাটতি দেখা দেয়। সচেতন মহল মনে করছেন, শিশুদের খেলাধুলার সময় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকা জরুরি।
নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| এলাকা | মাইজের মহল্লা, দক্ষিণ-পূর্ব এলাকা |
| উপজেলা | বানিয়াচং |
| জেলা | হবিগঞ্জ |
| ঘটনার সময় | বুধবার, বিকেল সাড়ে ৩টা |
| নিহত | সাদিয়া আক্তার (৬), জুবায়েল মিয়া (৪) |
| পিতা | লিটন মিয়া |
| ঘটনা | পুকুরে পড়ে পানিতে ডুবে মৃত্যু |
| উদ্ধার ও পরিণতি | স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা |
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলাশয় ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
