পুকুরপাড়ে লুকিয়ে রাখা ১১৮ কেজির বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক বিশাল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের চোরাচালান রুখে দিয়েছে র‍্যাব-১০। গত রবিবার সন্ধ্যায় পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১১৮ কেজি ওজনের একটি প্রাচীন বিষ্ণু প্রতিমা। অত্যন্ত নিখুঁত কারুকাজ খচিত এই কালো পাথরের মূর্তিটি পাচারের উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাদ্দাম মোল্লা (৩২) নামক এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

অভিযানের নেপথ্য কাহিনী

র‍্যাব-১০, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুড়াইচ ইউনিয়নের বুড়াইচ মধ্যপাড়া গ্রামে অবস্থান নেয়। গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে, সেখানে একটি মূল্যবান মূর্তি বিক্রির উদ্দেশ্যে দরদাম চলছে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সাদ্দাম মোল্লার বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে তল্লাশি চালিয়ে বিশালকার এই প্রতিমাটি উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, ধৃত সাদ্দাম মোল্লা এক পেশাদার পাচারকারী চক্রের সদস্য। তিনি জনৈক এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকায় এই মূর্তিটি কিনেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে এটি অন্তত ৩ কোটি টাকায় বিক্রয় করা। বিপুল মুনাফার লোভে তিনি এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রত্নসম্পদটি নিজ জিম্মায় রেখেছিলেন।

উদ্ধারকৃত নিদর্শনের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

উদ্ধারকৃত বিষ্ণু মূর্তিটি কালো রঙের কষ্টিপাথরের বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর গায়ে খোদাই করা নকশা এবং মূর্তির গঠন দেখে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এটি কয়েকশ বছরের প্রাচীন। ১১৮ কেজি ওজনের এই মূর্তিটি বর্তমানে আলফাডাঙ্গা থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান ও মূর্তির বিস্তারিত তথ্য:

বিষয়বিবরণ
উদ্ধারকৃত প্রত্নসম্পদপ্রাচীন বিষ্ণু প্রতিমা (কালো পাথর)
মূর্তির ওজন১১৮ কিলোগ্রাম
অভিযানের সময়১৮ জানুয়ারি, সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট
অভিযানের স্থানবুড়াইচ মধ্যপাড়া, আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর
প্রধান অভিযুক্তসাদ্দাম মোল্লা (পুকুর মালিক)
উদ্ধারকারী দলর‍্যাব-১০, ফরিদপুর ক্যাম্প
আইনি ধারাপুরাকীর্তি আইন, ১৯৬৮
বর্তমান জিম্মাদারআলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ

আইনি পদক্ষেপ ও বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসানাত জানিয়েছেন, র‍্যাব এই ঘটনায় বাদী হয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে। ধৃত সাদ্দামকে আজ ১৯ জানুয়ারি আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে মূর্তিটি প্রকৃতপক্ষেই কষ্টিপাথরের কি না এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কতটুকু, তা নিশ্চিত করতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের শরণাপন্ন হয়েছে পুলিশ।

ঢাকার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি বিশেষজ্ঞ দল খুব শীঘ্রই ফরিদপুর সফর করবেন। তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মূর্তিটির পরবর্তী গন্তব্য (জাতীয় জাদুঘর বা প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণাগার) নির্ধারিত হবে। এছাড়া এই চক্রের সাথে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদনও করতে পারে।

দেশের অমূল্য প্রত্নসম্পদ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।