মাত্র ১১ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের কিশোর কেলেব হান্টার বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি সে বিশেষ ধরনের জাগলিং যন্ত্র পিন্ডালু ব্যবহার করে মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ৫১ বার বল ঘুরিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে। গিনেস কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই কেলেবকে রেকর্ডের স্বীকৃতিপত্র প্রদান করেছে।
জাগলিং হলো একে অপরের পর পর দুই বা ততোধিক বস্তু, যেমন বল বা কমলা, বাতাসে ছুড়ে আবার হাত দিয়ে ধরে রাখার একটি মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক দক্ষতার খেলা। মূল কৌশল হলো কোনো বস্তুকে মাটিতে পড়তে না দিয়ে হাতে ধরে দ্রুত আবার বাতাসে ছোড়া, ফলে একটি অবিচ্ছিন্ন চক্র তৈরি হয়।
কিন্তু কেলেবের রেকর্ডের মূল হাতিয়ার পিন্ডালু, যা জাগলিংয়ের আধুনিক ও চ্যালেঞ্জিং একটি রূপ। এটি দেখতে ইংরেজি ‘U’ আকারের প্লাস্টিকের টিউবের মতো। সাধারণ জাগলিংয়ে বল সরাসরি হাতে ধরা হয়, কিন্তু পিন্ডালুতে বলকে টিউবের এক মুখ দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য মুখ দিয়ে বের করতে হয় এবং আবার হাতে নিতে হয়। এই প্রক্রিয়া চোখ, হাত এবং শরীরের নিয়ন্ত্রণকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে।
কেলেব অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে রেকর্ডটি গড়েছে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ইউপিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সে জানায়, রেকর্ড ভাঙা মোটেও সহজ ছিল না। “দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করতে হয়েছে। অনুশীলনের সময় প্রায়ই দেখা যেত, ৩০ সেকেন্ড শেষ হওয়ার আগেই বল পড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু যখন রেকর্ডটি গড়লাম, তখন ঠিক ৩০ সেকেন্ড শেষে বলটি পড়ল। সময়টি একদম নিখুঁত ছিল,” কেলেব জানিয়েছে।
কেলেব তার সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন তার বাবাকে। তার বাবাও একসময় গিনেস রেকর্ডধারী ছিলেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৬টি অঙ্গরাজ্যে সাইকেল চালিয়ে তিনি সেই রেকর্ড গড়েছিলেন। কেলেব বলেন, “বাবার রেকর্ড পরে অন্য কেউ ভেঙে দিলেও, ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল বাবার মতো একটি বিশ্বরেকর্ড গড়া।”
নিচের টেবিলে কেলেবের রেকর্ডের প্রধান তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | কেলেব হান্টার |
| বয়স | ১১ বছর |
| দেশ | যুক্তরাষ্ট্র, উইসকনসিন |
| রেকর্ড | পিন্ডালুতে ৩০ সেকেন্ডে ৫১ বার বল ঘুরানো |
| বিভাগ | অনূর্ধ্ব-১৬ |
| রেকর্ডের স্বীকৃতি | গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস |
| অনুশীলনের সময় | ঘণ্টার পর ঘণ্টা |
| প্রেরণা | বাবার নিজস্ব গিনেস রেকর্ড |
এই রেকর্ড কেবল কেলেবের প্রতিভার পরিচায়ক নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে জাগলিংয়ের আধুনিক চ্যালেঞ্জগুলো অনুশীলন করতে অনুপ্রাণিত করছে।
