পিছিয়ে থেকেও লিভারপুলের দাপুটে প্রত্যাবর্তন

অ্যানফিল্ডে রোববার রাতে যে দৃশ্যপট ফুটে উঠল, তা লিভারপুল সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে মৌসুমের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত ছন্দ, গতি ও কৌশলের মিশেলে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে আর্নে স্লটের শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে টপকে পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে লিভারপুল, আর চতুর্থ স্থানে থাকা চেলসির সঙ্গে ব্যবধান নেমে এসেছে মাত্র এক পয়েন্টে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লিভারপুলের আক্রমণভাগ নিয়ে সমালোচনা ছিল তীব্র। সুযোগ তৈরি হলেও গোলের ধারাবাহিকতা না থাকায় প্রশ্ন উঠছিল দলের সৃজনশীলতা নিয়ে। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রথম লিগ ম্যাচেই সেই সব প্রশ্নের জবাব দিল দলটি। স্টাইলিশ পাসিং, দ্রুত ট্রানজিশন আর আক্রমণভাগের নিখুঁত সমন্বয়ে নিউক্যাসলকে চাপে রাখে তারা। মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে বোর্নমাউথের বিপক্ষে তিন গোলের পর এই প্রথম অ্যানফিল্ডে তিনের বেশি গোল করল লিভারপুল।

ম্যাচের নায়ক নিঃসন্দেহে হুগো একিতিকে। দুই গোল করে শুধু স্কোরলাইনই বদলাননি, বরং ম্যাচের গতি পুরোপুরি লিভারপুলের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তার সঙ্গে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই দুজন ইতোমধ্যে ছয়টি গোলের সরাসরি অবদান রেখেছেন, যা তাদের প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম কার্যকর আক্রমণাত্মক জুটিতে পরিণত করেছে।

তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল লিভারপুলের জন্য অস্বস্তিকর। দীর্ঘ এক বছর পর ওপেন প্লে থেকে গোল করে নিউক্যাসলকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। সেই গোলের পর কিছু সময় নিউক্যাসল আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেললেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিকরা। মিডফিল্ডে ব্রুনো গিমারায়েস ও জোয়েলিন্টনের অনুপস্থিতি নিউক্যাসলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। লিভারপুলের দ্রুত পাসিং ও উচ্চ প্রেসিংয়ের সামনে তাল মেলাতে ব্যর্থ হয় তারা।

বিরতির ঠিক আগে ভির্টজের দারুণ ড্রিবলিং থেকে আসা পাসে সমতা ফেরান একিতিকে। গোলের আনন্দ কাটতে না কাটতেই মিলোস কেরকেজের লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল নিউক্যাসলকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।

মধ্য সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ খেলে আসায় দ্বিতীয়ার্ধে নিউক্যাসলকে কিছুটা ক্লান্ত দেখায়। সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগায় লিভারপুল। ভির্টজ ও মোহামেদ সালাহর নিখুঁত সমন্বয়ে আসে তৃতীয় গোল, যা কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। শেষদিকে আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন ইব্রাহিমা কোনাতে। বাবার মৃত্যুর পর তিন ম্যাচ বিরতি দিয়ে শুরুর একাদশে ফিরে গোল করে ৪-১ ব্যবধান নিশ্চিত করেন তিনি।

এই জয় লিভারপুলের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এপ্রিলের পর এই প্রথম পিছিয়ে থেকে কোনো ম্যাচ জিতল তারা, যা স্লটের অধীনে দলের মানসিক দৃঢ়তার বড় প্রমাণ। অন্যদিকে অ্যাওয়ে ম্যাচে ধারাবাহিক ব্যর্থতায় ভুগতে থাকা নিউক্যাসল নেমে গেছে হতাশাজনক দশম স্থানে।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান

বিভাগলিভারপুলনিউক্যাসল
গোল
বল দখল৬১%৩৯%
শট (টার্গেটে)১৮ (৯)৮ (৩)
কর্নার
ফাউল১০১৪

সব মিলিয়ে, এটি শুধু একটি জয় নয়; বরং লিভারপুলের জন্য ছিল আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের ঘোষণা। মৌসুমের বাকি সময়ের জন্য এই পারফরম্যান্স যে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে, তা বলাই যায়।