পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম

উত্তর কোরিয়া আবারও সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনে বিশ্বকে চমকে দিল। সমুদ্রসীমায় দূরপাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়ে পিয়ংইয়ং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তাদের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের লক্ষ্য কেবল অব্যাহতই নয়, বরং আরও বিস্তৃত পথে এগোচ্ছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন নিজ উপস্থিতিতে পুরো পরীক্ষা তদারক করেন এবং ঘোষণা দেন—উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক যুদ্ধ সক্ষমতা ‘সীমাহীন ও নিরবচ্ছিন্নভাবে’ উন্নত হবে।

রবিবার অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার বিস্তারিত জানিয়ে সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, পশ্চিম উপকূলের সমুদ্রসীমায় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পূর্বনির্ধারিত কক্ষপথ অতিক্রম করে লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানে। কিম জং-উন পরীক্ষার পর বলেন, শত্রুপক্ষের হুমকির মুখে প্রতিরক্ষা শক্তি নিয়মিত যাচাই করা একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যেই সামরিক মহড়া ও অস্ত্র উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।

দক্ষিণ কোরিয়া নিশ্চিত করেছে যে, সুনান এলাকা থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সিউল ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে বছরের শেষ দিকে আরও বড় ধরনের সামরিক উসকানি দেখা যেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।

এদিকে সামনে রয়েছে ২০২৬ সালের শুরুতে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির নবম কংগ্রেস। সেখানে পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষিত হওয়ার কথা। বিশ্লেষকদের মতে, সে বৈঠককে কেন্দ্র করে কিম জং-উন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, পারমাণবিক সক্ষমতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক চাপের মোকাবিলা—সবকিছুকেই কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছেন। অস্ত্র পরীক্ষা, সামরিক পরিদর্শন ও বহুমুখী বার্তা দেওয়া তার পরিকল্পনারই অংশ।

সাম্প্রতিক সামরিক কর্মকাণ্ডের সময়রেখা

কার্যক্রমতারিখউল্লেখযোগ্য দিক
কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা২৯ ডিসেম্বরনির্দিষ্ট কক্ষপথে সফল আঘাত, কিমের উপস্থিতি
পারমাণবিক সাবমেরিন পরিদর্শন২৬ ডিসেম্বর৮,৭০০ টন সাবমেরিন; কিমের কন্যা জু-আয়ের উপস্থিতি
সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণাচলমান‘অপ্রতিরোধ্য’ পারমাণবিক শক্তি গঠন লক্ষ্য

পরীক্ষার মাত্র কয়েক দিন আগে নির্মাণাধীন বিশাল ৮,৭০০ টন ওজনের পারমাণবিক সাবমেরিন পরিদর্শনে গিয়ে কিম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন—দক্ষিণ কোরিয়ার সাবমেরিন নির্মাণ পরিকল্পনা উত্তর কোরিয়ার জন্য বড় হুমকি, যার প্রতিবাদে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তার কন্যা কিম জু-আয়ের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যর্থ শীর্ষ বৈঠকের পর থেকে পিয়ংইয়ং আলোচনায় আগ্রহী হয়নি। বরং সামরিক কর্মসূচি সম্প্রসারণ ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়া এবং সাম্প্রতিক পরীক্ষা—দুটিই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিমের কঠোর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বাড়তি সক্ষমতা শুধু দক্ষিণ কোরিয়া নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও চাপ তৈরি করছে। পিয়ংইয়ংয়ের বার্তা স্পষ্ট—তাদের অগ্রযাত্রা থামানোর ক্ষমতা কারও নেই। বিশ্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তরের এই উদ্যোগ নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।