পাবনায় নিখোঁজ যুবক নদীতে মিলল মৃতদেহ

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় শশুরবাড়িতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জাহিদ হাসান (৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ দুই দিন পর বড়াল নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে সিলন্দা বাজার এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার দেহ পাওয়া যায়।

নিহতের পরিচয় ও পটভূমি

মৃত জাহিদ চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের অমৃতকুন্ডা হাটপাড়া গ্রামের কাজেম প্রামাণিকের ছেলে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। কয়েকদিন আগে তিনি শশুরবাড়ি ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা গ্রামে যান।

পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০ মার্চ সন্ধ্যা সাতটার দিকে শশুরবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা বহু খোঁজাখুঁজি করেও তাকে খুঁজে পাননি।

মরদেহ উদ্ধারের বিবরণ

সোমবার দুপুরে সিলন্দা বাজার এলাকায় স্থানীয়রা বড়াল নদীতে ভাসমান এক যুবকের মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহ সনাক্ত করেন।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। নগরবাড়ি নৌ পুলিশ বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুসন্ধান করবে।”

নগরবাড়ি নৌ পুলিশের ইনচার্জ ফকরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “মরদেহ উদ্ধার করে সুরতাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবার লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনা সংক্ষেপে

বিষয়বিবরণ
মৃত ব্যক্তির নামজাহিদ হাসান, ৩৫ বছর
পিতার নাম ও ঠিকানাকাজেম প্রামাণিক, মূলগ্রাম ইউনিয়ন, অমৃতকুন্ডা হাটপাড়া, চাটমোহর, পাবনা
নিখোঁজ হওয়ার তারিখ২০ মার্চ ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা
উদ্ধার তারিখ ও সময়২৩ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১টা
উদ্ধার স্থানবড়াল নদী, সিলন্দা বাজার, সাঁথিয়া, পাবনা
পরিবারের বিবরণমানসিক ভারসাম্যহীন, শশুরবাড়িতে ছিলেন
আইনগত প্রক্রিয়াঅপমৃত্যু মামলা দায়ের, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, তদন্ত চলমান

সামাজিক ও মানবিক প্রেক্ষাপট

এই মর্মান্তিক ঘটনা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের যত্ন এবং পরিবারের দায়িত্বশীলতার গুরুত্বের ওপর নতুন করে আলোকপাত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাড়িতে এবং নদী, ছাদ বা অন্যান্য উচ্চ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

স্থানীয়দের দ্রুত খবর দেওয়ার ফলে মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে।