পানগাঁও টার্মিনালে মেডলগের ব্যবস্থাপনায় নতুন যাত্রা

ঢাকার পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল (পিআইসিটি) দীর্ঘ বিরতি ও লোকসানের অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুন ব্যবস্থাপনায় আবার কার্যক্রম শুরু করেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক লজিস্টিকস কোম্পানি মেডলগের পরিচালনায় রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে টার্মিনালটির পুনরায় উদ্বোধন করা হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল ও বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা চালু হওয়ায় এই টার্মিনাল এবার লাভজনক পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং দেশের সামগ্রিক লজিস্টিকস ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।

পানগাঁও টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছিল মূলত সড়কপথের ওপর অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের চাপ কমানো এবং নৌপথে কনটেইনার পরিবহন উৎসাহিত করার লক্ষ্যে। ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে টার্মিনালটি নির্মিত হয়। রাজধানীর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এটি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে একটি কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হলেও বাস্তবে সেই সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহার হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হলেও অতিরিক্ত মাশুল, পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা, আধুনিক যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত লজিস্টিকস সহায়তার অভাবে ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারান। ফলে টার্মিনালটির সক্ষমতার বড় একটি অংশ অব্যবহৃত থেকে যায় এবং প্রায় এক দশক ধরে এটি নিয়মিত লোকসান গুনতে থাকে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার পানগাঁও টার্মিনালকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২২ বছরের জন্য পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মেডলগ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের চুক্তি করে। নতুন চুক্তির আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মানের অপারেশন পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পুনরায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিদেশি ব্যবস্থাপনায় পানগাঁও টার্মিনাল আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে এবং নৌপথে কনটেইনার পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর ফলে সড়কপথের ওপর চাপ কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং মাল্টিমডাল পরিবহন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পানগাঁও টার্মিনাল কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে রাজধানীকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সময় ও খরচ উভয়ই কমবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপও কিছুটা লাঘব হবে।

নিচের টেবিলে পানগাঁও টার্মিনালের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলোঃ

বিষয়তথ্য
নির্মাণ সাল২০১৩
নির্মাণ ব্যয়প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা
পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনাচট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ
নতুন ব্যবস্থাপনামেডলগ বাংলাদেশ
চুক্তির মেয়াদ২২ বছর
মূল লক্ষ্যনৌপথে কনটেইনার পরিবহন বৃদ্ধি

সব মিলিয়ে, পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালের নতুন যাত্রা কেবল একটি অবকাঠামো পুনরুজ্জীবনের গল্প নয়; বরং এটি দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস খাতে আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।