ঢাকায় রাতের অন্ধকারে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের নাফ নদ ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ভয়ংকর একটি পাচার সিন্ডিকেট সক্রিয়। স্থানীয় জেলে, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় মিয়ানমারের রাখাইনে বাংলাদেশের চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু, সার ও ওষুধ পাঠিয়ে বিপরীতে কোটি টাকার ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ (আইস) আনা হচ্ছে।
‘সেভেন স্টার গ্রুপ’ নেতৃত্বে এই চক্র গভীর সমুদ্রপথ, মৎস্যঘাট ও ছোট ট্রলার ব্যবহার করে গোপনে লেনদেন চালাচ্ছে। নারী, শিশু ও রোহিঙ্গাদের বহন ও খালাস কাজে ব্যবহার করা হয়, সন্দেহ এড়াতে অপহরণ নাটক সাজানো হয়। প্রতি ২০ লাখ টাকার বাংলাদেশি পণ্যের বিনিময়ে ফেরে অন্তত ২ কোটি টাকার মাদক।
বিজিবি ও কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ মাসে দেড়শ কোটি টাকার মাদক ও ২১ লাখ টাকার বাংলাদেশি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে ৭৯ পাচারকারী, মামলা ৯৯টি। শুধু ইয়াবা আটক হয়েছে ১৩৯ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ টাকার, ক্রিস্টাল মেথ ২.৯৪৬ কেজি (মূল্য ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা)। এছাড়া মদ, বিয়ার, গাঁজা, ফেনসিডিল ও হেরোইনও জব্দ হয়েছে।
পাচারের মূল হটস্পট হলো—সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ ও কক্সবাজার উপকূলের গভীর সমুদ্রপথ। সেন্টমার্টিনে অন্তত চারটি পাচার পয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে আব্দুর রশিদ, রশিদ মেম্বার, রোহিঙ্গা মোনাফ, রফিক, আবুল কালাম, গৌড়া পুতু, জুহুর আহম্মদ ও সালেহ আহম্মদ।
স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। টেকনাফ ইউএনও শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, আটক জেলেদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে এবং মিয়ানমার সীমান্তে যাওয়া থেকে বিরত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জিলাইভ/টিএসএন
