বর্তমান আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের যাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পৌঁছেছে। ১৯৯২ সালের স্মৃতি মনে পড়ে, যখন জাতীয় ক্রিকেট দল প্রথম পাঁচ ম্যাচে মাত্র তিন পয়েন্ট অর্জন করে, তখন অধিনায়ক ইমরান খান দলটিকে “ঘায়েল বাঘ” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সেই সময়, পাকিস্তানকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় অর্জন করতে হয়েছিল। দল তখন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে সেমিফাইনাল অতিক্রম করেছিল এবং বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়েছিল।
আজকের পাকিস্তান দলও সেই “ঘায়েল বাঘের” মনোভাব বহন করছে, তবে সামনের পথ সহজ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাটিং স্তম্ভ বাবর আজম এবং পেস তারকা শাহিন শাহ আফ্রিদি ফর্ম খুঁজে পাচ্ছেন না। ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগের পারফরম্যান্স ঐতিহাসিক আধিপত্যের তুলনায় খানিকটা নিচে, যা পরবর্তী ম্যাচের আগে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের সামনে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জয় অর্জন করা অপরিহার্য, যা তাদের সুপার এইটে স্থান নিশ্চিত করবে। যদিও নামিবিয়া এখনও পয়েন্ট পাননি, পাকিস্তান দলে আত্মবিশ্বাসের অবনতি লক্ষ্য করা গেছে।
| দল | শীর্ষ ১০ ব্যাটসম্যান | শীর্ষ ২৫ ব্যাটসম্যান | শীর্ষ ১০ বোলার | সর্বোচ্চ বোলারের র্যাঙ্ক |
|---|---|---|---|---|
| পাকিস্তান | ১ | ৩ | ২ | ২৫ |
| নামিবিয়া | ০ | ০ | ০ | ৭৯ (বার্নার্ড স্কলৎস) |
গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স মিশ্র। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে তিন উইকেটের জয় এসেছে, যেখানে শেষ তিন বলের মধ্যে লক্ষ্য পূরণ হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৩২ রানের জয় এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ অবদান এসেছে সাহিবজাদা ফারহানের ব্যাট থেকে, যিনি দলের সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন, এবং স্পিনার উসমান তারিক তিন উইকেট নেন।
তবে প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত দলের বিরুদ্ধে হারের পর দলীয় মনোবল প্রভাবিত হয়েছে। প্রধান কোচ এখন আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। উসমান তারিক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা পূর্ববর্তী ম্যাচ থেকে শিখেছি এবং নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছি। আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে না।”
আজকের জয় পাকিস্তানের সুপার এইটে প্রবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তাই এটি একটি উচ্চ-দাবীযুক্ত ম্যাচ। ভক্ত ও বিশ্লেষকরা উত্সাহীভাবে দেখছেন পাকিস্তান কি ১৯৯২ সালের রূপকল্পের মতোই প্রতিরোধ এবং মানসিক দৃঢ়তা পুনরুদ্ধার করতে পারবে কিনা।
এবার পাকিস্তানের জন্য নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটি শুধুই কৌশলগত নয়, এটি মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষাও।
