পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের খাইরপুর জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে জাতীয় মহাসড়কের টান্ডো মাস্তি এলাকায় একটি যাত্রীবাহী কোচের সঙ্গে ভারী কংক্রিট গার্ডার বহনকারী ট্রেইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়, পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও কয়েকজন প্রাণ হারান।
উদ্ধারকারী সংস্থা Edhi Foundation-এর সূত্র জানায়, নিহতদের মধ্যে ৯ জন যাত্রী, বাসচালক ও কন্ডাক্টর রয়েছেন। আহত অন্তত ১০ জনকে খাইরপুর সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত কোচটি পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে করাচির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। ভোরের কুয়াশা, অতিরিক্ত গতি এবং মহাসড়কে ভারী যানবাহনের চাপ—এই তিনটি বিষয়কে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করছে পুলিশ। সংঘর্ষের তীব্রতায় কোচটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং কয়েকজন যাত্রী গাড়ির ভেতরেই আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাটার মেশিন ব্যবহার করে তাঁদের উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর সিন্ধ পুলিশের মহাপরিদর্শক সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা তদারকির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সড়ক যোগাযোগ আংশিকভাবে স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | টান্ডো মাস্তি, খাইরপুর, সিন্ধু |
| সময় | ১৫ ফেব্রুয়ারি, ভোর |
| জড়িত যানবাহন | যাত্রীবাহী কোচ ও কংক্রিট গার্ডারবাহী ট্রেইলার |
| নিহত | ১১ জন (যাত্রী, চালক, কন্ডাক্টর) |
| আহত | অন্তত ১০ জন |
| গন্তব্য | পাঞ্জাব থেকে করাচি |
উল্লেখ্য, এর মাত্র দুই দিন আগে এম-৯ মোটরওয়েতে কাঠোরের কাছে আরেকটি বড় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন। সে ঘটনায় একটি তেলবাহী ট্যাংকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রেইলার ও অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পরে উল্টো দিক থেকে আসা বাসসহ আরও কয়েকটি যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হয়। পুলিশ জানায়, কিছু যানবাহন সড়কের উল্টো পাশে চলছিল এবং বেপরোয়া গতিই ছিল প্রধান কারণ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মহাসড়কগুলোতে ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং চালকদের ক্লান্তি—এসব কারণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, কঠোর নজরদারি এবং চালকদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো ছাড়া এমন প্রাণহানি রোধ করা কঠিন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
