পাকিস্তানি বিমান হামলায় আফগানদের হতাহত

আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তান পরিচালিত বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অসংখ্য লোক নিহত ও আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলা “সন্ত্রাসী শিবির”কে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। ইসলামাবাদ দাবি করছে, আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত সাম্প্রতিক আত্মঘাতী বোমা হামলা এবং সামরিক অভিযানের জন্য কিছু গোষ্ঠী দায়ী।

গত অক্টোবরের সীমান্ত সংঘর্ষের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সংঘর্ষে দুই দেশের অন্তত ৭০ জন নিহত হন। এরপরের মাসগুলোতে সীমান্ত এলাকায় ছোটখাট সংঘর্ষ ও উত্তেজনা অব্যাহত থাকার কারণে বাণিজ্য ও যাতায়াত মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

হামলার বিস্তার ও লক্ষ্যবস্তু

পাকিস্তান জানিয়েছে, নানগারহার ও পাখতিকা প্রদেশে সাতটি সন্ত্রাসী শিবির এবং গোপন আস্তানায় হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় নারী ও শিশুসহ কয়েক ডজন লোক নিহত ও আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপ থেকে আহত ও মৃতদের উদ্ধারে বুলডোজার ব্যবহার করছেন।

নানগারহারের বিহসুদ জেলায় বিমান হামলায় একটি বাড়ি সরাসরি লক্ষ্য করা হয়, যেখানে ১৭ জন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে ১২ জন শিশু ও কিশোর।

পাকিস্তানি দাবি ও আফগান প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হামলা চালাতে গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, আফগানিস্তানে অবস্থানরত “খারিজি”রা তাদের দেশে হামলা চালাচ্ছে। তবে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, “পাকিস্তানি জেনারেলরা দেশটির নিরাপত্তা দুর্বলতা ঢাকতে এ ধরনের হামলার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দিতে চাইছেন।” আফগান তালেবান সরকার বরাবরই পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

হামলার সারসংক্ষেপ

হামলার স্থাননিহতআহতলক্ষ্যবস্তুহামলার ধরন
ইসলামাবাদ৪০১৬০+শিয়া মসজিদআত্মঘাতী বোমা
বান্নু২ সেনাঅজানাসামরিক বহরগাড়ি বোমা ও বন্দুকযুদ্ধ
বিহসুদ, নানগারহার১৭অজানাবাড়ি/শিবিরবিমান হামলা

সীমান্ত উত্তেজনা ও প্রভাব

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রায় ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিয়মিত সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ও মানুষের যাতায়াত প্রভাবিত হচ্ছে। অক্টোবরের সংঘর্ষের পর উভয় দেশ অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা ও অভিযোগ-প্রতিযোগিতার কারণে শান্তি স্থায়ী হয়নি।

এই বিমান হামলা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই ঘটনার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষ নতুন করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এই ঘটনা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন চরম সীমায় পৌঁছে দিয়েছে এবং তা সাম্প্রতিককালে সীমান্তবর্তী শান্তি প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ করছে।