বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত মতিউর রহমান (৬৯) এলাকাবাসীর কাছে শান্ত স্বভাবের ও নিরীহ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সামান্য আর্থিক বিরোধ থেকে এমন নৃশংস ঘটনা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।
ঘটনাটি উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের শরিফ সুঘাট গ্রামে ঘটে। পারিবারিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত ২২ মার্চ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মতিউর রহমান তার পাওনা অর্থ আদায়ের জন্য একই গ্রামের বাসিন্দা বেলাল হোসেনের বাড়িতে যান। সেখানে অর্থ লেনদেন নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে তীব্র বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তি মতিউর রহমানের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম হয়, এমনকি হাত-পা ভেঙে যায় বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা তার অবস্থার অবনতি দেখে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেন মতিউর রহমান। শেষ পর্যন্ত ২৮ মার্চ বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনরা এ ঘটনার বিচার দাবি করে বলেন, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৯ মার্চ শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে এবং ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে।
নিচে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | মতিউর রহমান (৬৯) |
| ঘটনার স্থান | শরিফ সুঘাট গ্রাম, শেরপুর, বগুড়া |
| ঘটনার সময় | ২২ মার্চ, সকাল প্রায় ১১টা |
| মৃত্যুর সময় | ২৮ মার্চ, বিকেল |
| ঘটনার কারণ | পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ |
| মামলার বাদী | শফিকুল ইসলাম (ছেলে) |
| আসামির সংখ্যা | ১২ জন |
| বর্তমান অবস্থা | আসামিরা পলাতক |
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মঈনুদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনার সত্যতা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ জোর অভিযান চালাচ্ছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের সহিংসতা গ্রামীণ সামাজিক বন্ধনকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ দমন করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন তারা, যাতে ছোটখাটো আর্থিক বিরোধ আর বড় ধরনের প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ না নেয়।
