ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ ইতোমধ্যে ১৬তম দিনে গড়িয়েছে। কূটনৈতিক মহলের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও সংঘাত বন্ধের কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। বরং সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও ক্রমেই বাড়ছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গতকাল পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। স্থানীয় সময় দুপুরের পর থেকেই একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ওই অঞ্চলে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা এবং বহু স্থানে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানের “কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু” ধ্বংস করতেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। যদিও হামলায় ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা হতাহতের তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তারা প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইরানের সরকারি মহল অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নাকি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মতো আরেকটি ঘটনা সাজানোর পরিকল্পনা করছে এবং সেই ঘটনার দায় ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে। এই অভিযোগের কোনো স্বাধীন প্রমাণ এখনো প্রকাশ পায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতিতে যেতে তিনি আগ্রহী নন। একই অবস্থান নিয়েছে তেহরানও। ফলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা আপাতত খুবই ক্ষীণ বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। মধ্যস্থতার চেষ্টা হিসেবে মিশর ও ওমান দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এক বিবৃতিতে বলেছেন, চলমান সংঘাত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, যুদ্ধ অন্তত আরও তিন সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
সংঘাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিচের সারণিতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | সর্বশেষ অবস্থা |
|---|---|
| যুদ্ধের সময়কাল | ১৬তম দিনে প্রবেশ |
| সাম্প্রতিক হামলা | পশ্চিম ইরানে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা |
| ইরানের অবস্থান | যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে অনীহা |
| যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | যুদ্ধবিরতিতে রাজি নন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প |
| কূটনৈতিক উদ্যোগ | মিশর ও ওমান মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে |
| সম্ভাব্য সময়কাল | ইসরায়েলের মতে আরও প্রায় তিন সপ্তাহ |
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, প্রয়োজনে ইরানের খারগ দ্বীপে আবারও হামলা চালানো হতে পারে। এই দ্বীপটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মহল এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুত একটি কূটনৈতিক সমাধানের আশায় রয়েছে।
