পরীক্ষা থমকে, তালায় ঝুলছে শিক্ষা: সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে দেশজুড়ে অচলাবস্থা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। বেতনগ্রেড উন্নীতকরণসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় তাঁরা আজ বুধবার থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে গেছেন। এর ফলে বহু বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ হয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঢাকার মতো কিছু এলাকায় পরীক্ষার চিত্র স্বাভাবিক।

বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক স্কুল ৬৫ হাজারের বেশি এবং শিক্ষার্থী এক কোটিরও বেশি। এত বড় শিক্ষাব্যবস্থায় সহকারী শিক্ষকরা প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের কর্মবিরতি মানে বিশাল শিক্ষাব্যবস্থাকে থামিয়ে দেওয়া।

২৭ নভেম্বর কর্মবিরতি শুরুর পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার সময়সূচি বিপর্যস্ত হচ্ছে। সোমবার থেকে পরীক্ষাবর্জনের পর বিদ্যালয়ভেদে জটিলতা আরও বাড়ে। মেহেরপুরে একাধিক স্কুলে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এসে তালা দেখে ফিরে যাচ্ছে—যা অভিভাবক–শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আজমাইল হোসেন হতাশ স্বরে বলেন, “পরীক্ষা দিতে এসে দেখি দরজা বন্ধ।” সহকারী শিক্ষক হামিদুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পরীক্ষা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে—তাই তাঁরা বাধ্য হয়েছেন।

অন্যদিকে সিলেটের অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও শাটডাউন মানছেন না। সুনামগঞ্জে প্রধান শিক্ষকেরা নিজ উদ্যোগে পরীক্ষা নিচ্ছেন, যদিও তাঁরা বলছেন—এটি স্থায়ী সমাধান নয়, বরং চাপের মুখে নেওয়া সাময়িক ব্যবস্থা। ঢাকার নীলক্ষেত সরকারি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবেই চলছে।

এই আন্দোলনের মূল তিন দাবি হলো—
✔ সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩তম থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ
✔ চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা দূর করা
✔ সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা

তাদের অভিযোগ—যারা সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন, তারা সবচেয়ে কম গ্রেডে আছেন, যা অবিচার। অন্যদিকে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে—দাবিগুলো ইতিমধ্যে পে কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং মূল্যায়ন চলছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা পরীক্ষায় বাধা দিচ্ছেন, এমন অভিযোগও তারা করেছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়—পরীক্ষা বন্ধ রাখা, তালা লাগানো কিংবা সহকর্মীদের হয়রানি করা সরকারি চাকরি আইন লঙ্ঘন। কাজেই অবিলম্বে কাজে যোগ না দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এখন প্রশ্ন—সমাধান কী?
যদি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না আসে, তাহলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে সংকটে পড়বে। সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছাত্র–ছাত্রীরা—যাদের বার্ষিক মূল্যায়নই এখন ঝুলে আছে তালাবদ্ধ স্কুলের সামনে।