পরিবার পুলিশের হাতে মাদকাসক্ত ছেলে হস্তান্তর

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নলুয়া গ্রামে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক অদ্ভুত সামাজিক দৃশ্যের সাক্ষী হয় স্থানীয় জনতা। দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও অপরাধে জড়িত থাকার কারণে আশরাফুল নামের এক যুবককে তার বাবা, সাবেক কাউন্সিলর আহিজুল মুন্সি, নিজ হাতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

আহিজুল মুন্সি জানান, “আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে চুরিসহ নানা অপরাধে লিপ্ত ছিল। নেশাগ্রস্ত বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করত। বহুবার সতর্ক করার পরও সে পথ পরিবর্তন করেনি। তার ধারাবাহিক অশিক্ষিত ও অশালীন আচরণের কারণে আমার ও আত্মীয়স্বজনের সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লজ্জার কারণে আমি আর সমাজে তার জন্য মুখ দেখাতে পারছিলাম না। তাই তাকে পুলিশের হাতে দিতে বাধ্য হয়েছি।”

স্থানীয়রা জানান, আশরাফুলের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে নলুয়া গ্রামে বহুবার সালিশি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে শুধু চুরি নয়, মাদক সেবন এবং অন্যান্য প্রকার অপরাধেও জড়িত ছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আশরাফুল আরও দুই সহযোগীর সঙ্গে মিলিত হয়ে এলাকার এক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে নগদ এবং পণ্য চুরি করে। তার অতিরিক্ত দুষ্টুমি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত ছিলেন।

মতলব দক্ষিণ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, “আশরাফুলকে তার বাবা নিজে থানায় এনে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিচের টেবিলটি আশরাফুলের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেছে:

ঘটনা তারিখঅপরাধের ধরনসহযোগীস্থানমন্তব্য
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬চুরি২ জনস্থানীয় ব্যবসায়ীর দোকানদোকান থেকে নগদ ও পণ্য চুরি
বিভিন্ন সময়চুরি ও সামাজিক অশান্তিনলুয়া গ্রাম ও আশেপাশের এলাকাএলাকার শান্তি বিঘ্নিত
দীর্ঘকালমাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডমাদকাসক্ত বন্ধুরাগ্রাম-শহরপরিবার ও সমাজে লজ্জা সৃষ্টি

স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যস্থতায় আশরাফুল সঠিক পথে ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে এলাকায় শান্তি বজায় থাকবে। এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, কখনও কখনও ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি, যা সমাজে দায়িত্বশীলতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

বাবা-মায়ের উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উদাহরণ স্থাপন করেছে—যেখানে পরিবার তাদের সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ সমাজে নৈতিক ও আইনগত মান বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং ভবিষ্যতে অপরাধপ্রবণতার মাত্রা কমাতে ভূমিকা রাখে