বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই মাতৃ ও শৈশব স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের (DGFP) সামনের সারির কর্মীদের ঘাটতি এই অর্জনগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট অনুমোদিত পদগুলোর প্রায় ২৮ শতাংশ খালি রয়েছে। জেলার ও ইউনিয়নের পর্যায়ে এই শূন্যপদ পরিস্থিতি আরও গভীর, যেখানে অনেক এলাকায় শূন্যপদের হার ২৮ থেকে ৪৫ শতাংশের মধ্যে।
এই শূন্যপদ সরাসরি সেবা গ্রহণকারীদের উপর প্রভাব ফেলছে। পরিবার কল্যাণ সহকারী, মিডওয়াইভ এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকরা গর্ভনিরোধক বিতরণ, গর্ভবতী মা ও নবজাতকদের যত্ন, এবং কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান করেন। কর্মী সংকটের কারণে যখন একজন কর্মী একাধিক দায়িত্ব একাই পালন করতে বাধ্য হন, তখন এসব মৌলিক সেবার মান ও বিস্তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শূন্যপদের পরিসংখ্যান (নভেম্বর ২০২৫)
| পদবী | মোট পদ | শূন্য পদ | শূন্যপদ হার (%) |
|---|---|---|---|
| পরিবার কল্যাণ সহকারী | ২৩,৫০০ | ৪,১৮৮ | ১৭.৮ |
| পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক | ৩৭১ | ৩৭১ | ১০০ |
| ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র চিকিৎসক | ২,৫০০ | ৮৭৮ | ৩৫.১ |
| জেলার গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহ | বিভিন্ন | ৩৬–৪৫% | — |
জেলা পর্যায়ের তথ্য সংকটের গভীরতা আরও স্পষ্ট করে। রাজশাহীতে প্রায় ৩৬ শতাংশ পদ শূন্য, ফারিদপুরে ৩৯ শতাংশ শূন্যপদ, যেখানে ৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে ৮টি সম্পূর্ণ অশৃঙ্খল। পাহাড়ি জেলার মধ্যে, খাগড়াছড়িতে শূন্যপদ হার ৪৪ শতাংশ, গাইবান্ধায় ৩৮ শতাংশ, ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি নিয়োগ প্রক্রিয়া
কর্মকর্তারা দীর্ঘ প্রক্রিয়াজাত নিয়োগকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২০ সালে ৩৬টি বিভাগের জন্য যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল, তার মধ্যে মাত্র ৯টি বিভাগের নিয়োগ হয়েছে। বাকি ২৭টি পদ এখনও অনুমোদনের বিলম্ব ও আইনি জটিলতার কারণে স্থগিত।
DGFP’র পরিচালক (প্রশাসন) মির সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন নিয়োগ কাঠামো মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া মাত্র, পরবর্তী নিয়োগের আগে দেশে শূন্যপদ জরিপ চালানো হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, অবিলম্বে সংকট সমাধান এবং সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের সেবা শূন্যপদ পূরণ সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কার—যার মধ্যে তিনটি অধিদপ্তরকে ‘প্রাথমিক ও জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর’-এ একত্রিত করার পরিকল্পনা—কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নতুন কাঠামোয় নিয়োগ, পদোন্নতি ও কার্যক্রম পরিচালনার স্পষ্টতা এখনও অনিশ্চিত।
বাংলাদেশের বহু দশকের জনস্বাস্থ্য অর্জন এখন দ্রুত নীতি বাস্তবায়ন ও কার্যকর নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করছে, না হলে মাতৃ, শিশু ও জনসংখ্যা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ধরে অর্জিত সাফল্য ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
