পরিবারে তিনজন নিহত: প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা চুয়াডাঙ্গা-যশোর সড়কে

চুয়াডাঙ্গা ও যশোরের সীমানায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক পুরো পরিবার বিধ্বস্ত হয়ে তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতরা হলেন বাবা, ছেলে ও নাতনি। গুরুতর আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরও তিন সদস্য, যারা বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ফাতেহাবাদ গ্রামের আব্দুল মজিদ সরদার (৭০), তার ছেলে মাহমুদ হাসান জাকারিয়া জনি (৪৩) এবং চার বছরের নাতনি সেহেরিশ চুয়াডাঙ্গায় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। তাদের সঙ্গে আরও তিনজন ছিলেন, যারা আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ মার্চ) রাত প্রায় ৩টার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি বট গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে দুইজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান।

দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের তালিকা

নামবয়সসম্পর্কঅবস্থা
আব্দুল মজিদ সরদার৭০বাবানিহত
মাহমুদ হাসান জাকারিয়া জনি৪৩ছেলেনিহত
সেহেরিশনাতনিনিহত
অজ্ঞাত ব্যক্তি ১অজ্ঞাতপরিবার সদস্যগুরুতর আহত, ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার
অজ্ঞাত ব্যক্তি ২অজ্ঞাতপরিবার সদস্যগুরুতর আহত, ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার
অজ্ঞাত ব্যক্তি ৩অজ্ঞাতপরিবার সদস্যগুরুতর আহত, ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার

বারবাজার হাইওয়ে থানার ওসি আলমগীর কবীর যুগান্তর জানান, “রাত ৩টা ১৫ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পাই। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে প্রাইভেটকারটি রাস্তার ডানপাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে। ঘটনাস্থলে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা যায়নি। সম্ভবত চালক গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।”

পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়রা শোকাহত। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দুর্ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, রাতের সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশেষত প্রাইভেটকারের অতিরিক্ত গতিসীমা এবং ঘুমনো চালকের কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে নিরাপদ ড্রাইভিং এবং সীটবেল্ট ব্যবহারের প্রতি সতর্ক থাকার জন্য বারবার সতর্ক করেছেন।

এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ যে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি পরিবারের জন্য জীবন রক্ষা করতে পারে।