প্রায় তিন বছর ছয় মাস পরও পদ্মা সেতুর দৈনিক যানবাহন সংখ্যা ও টোল আয় সরকারি প্রত্যাশা অনুযায়ী বৃদ্ধি পাচ্ছে না। সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই সেতু এখন পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা টোল রাজস্ব সংগ্রহ করেছে। যদিও এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্থপ্রবাহ, তবে সেতুর নির্মাণমূল্য ফেরত আনার প্রাথমিক সময়সীমার সাথে তুলনা করলে আয় প্রত্যাশার তুলনায় কম।
প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালের জন্য দৈনিক যানবাহন সংখ্যা ২৩,৯৫৪টি অনুমান করা হয়েছিল। ২০২৯ সালে এটি বাড়ার কথা ছিল ৩৪,৭২৫টি এবং ২০৫০ সালে পৌঁছানোর কথা ছিল ৬৬,৮২৯টি। বাস্তবে, বর্তমানে সেতুর দৈনিক গড় যানবাহন সংখ্যা প্রায় ২২,০০০, যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার। বড় যানবাহন যেমন বাস, ট্রাক ও পণ্য পরিবাহক, যা টোল আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এখনও অপেক্ষাকৃত কম।
পদ্মা সেতুর projected এবং বাস্তব তথ্য তুলনা
| বছর | অনুমানকৃত দৈনিক যানবাহন | প্রকৃত দৈনিক যানবাহন | অনুমানকৃত টোল রাজস্ব (কোটি টাকা) | প্রকৃত টোল রাজস্ব (কোটি টাকা) |
|---|---|---|---|---|
| 2022 | 23,954 | 22,000 | 1,323 | ~1,000 |
| 2029 | 34,725 | – | 1,804 | – |
| 2050 | 66,829 | – | 3,379 | – |
পদ্মা সেতু পরিচালনা করছে বাংলাদেশ ব্রিজ অথরিটি (বিবিএ), যা জয়নামা সেতু, মুক্তারপুর সেতু, কর্ণফুলী টানেল এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর তত্ত্বাবধান করে। জয়নামা সেতুর টোল আয় অনুমান অনুযায়ী হলেও কর্ণফুলী টানেল এবং মুক্তারপুর সেতুর আয় এখনও পরিচালন খরচ পূরণ করতে পারেনি।
সরকারি বিনিয়োগ প্রধানত ঋণ থেকে করা হয়েছে। ৩৫ বছরের কিস্তি চুক্তির অধীনে, বিবিএ ইতিমধ্যেই ২,২০৫ কোটি টাকা শোধ করেছে। এছাড়াও, টোল সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত ঠিকাদারি ব্যয় হয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা, এবং ভ্যাট হিসাবে জমা হয়েছে ৩৮৪ কোটি টাকা। মোট ব্যয় প্রায় ২,৯৩৩ কোটি টাকা, যা প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিবিএ উপদেষ্টা মুহম্মদ ফাওজুল কবির খান উল্লেখ করেছেন, দক্ষিণ অঞ্চলে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় ট্রাফিক বৃদ্ধির ধীরগতি হয়েছে। তিনি বলেন, তবু সেতুটি জনসাধারণের যাতায়াত সহজ করেছে এবং স্থানীয় সম্পদের মূল্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
মি. খান আরও বলেন, বর্তমান পরিচালন ব্যয় বেশি কারণ টোল সংগ্রহ ঠিকাদারি মাধ্যমে হচ্ছে। চুক্তি শেষ হলে বিবিএ সরাসরি টোল সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিচালনা করবে, যা খরচ কমাতে এবং নিট আয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
