পদ্মা ও মেঘনায় দুই মাসের মাছ শিকার নিষেধাজ্ঞা

চাঁদপুর জেলায় পদ্মা ও মেঘনা নদীতে দুই মাসের জন্য সব ধরনের মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে ইলিশ মাছের ছোট মাছ বা জাটকা সংরক্ষণ এবং সামগ্রিক মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞার সময় উল্লিখিত নদীতে মাছ শিকার, ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন বা সংরক্ষণ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। প্রশাসন সতর্ক করেছেন যে, আইন লঙ্ঘনকারীরা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবেন।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর এলাকা

চাঁদপুর জেলা প্রশাসন নিম্নলিখিত উপজেলা ও অঞ্চলের নদী অংশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে:

উপজেলা/অঞ্চলনিষিদ্ধ এলাকা সীমাদৈর্ঘ্য (কিমি)সীমিত কার্যক্রম
মতলব উত্তরশাটনাল থেকে আমীরাবাদ বাজার৩০জাল বিছানো, মাছ ধরা, ক্রয়/বিক্রয়, সংরক্ষণ, পরিবহন
হাইমচরচর ভেরবী পর্যন্ত৭০জাল বিছানো, মাছ ধরা, ক্রয়/বিক্রয়, সংরক্ষণ, পরিবহন

নিষেধাজ্ঞার এই সময়কালে এলাকায় থাকা আইস প্ল্যান্টও বন্ধ থাকবে। স্থানীয় জেলেদের সহায়তার জন্য সরকার ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপ ভাতা (ভিজিএফ) কর্মসূচির মাধ্যমে ধান বিতরণের ব্যবস্থা করেছে। প্রতিজন নিবন্ধিত জেলের জন্য চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি ধান প্রদান করা হবে। চাঁদপুর জেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩৯,৪০০ জন।

শাস্তি ও আইনগত ব্যবস্থা

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বাধিক দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য হতে পারে। প্রশাসন উভয় শাস্তি একসাথে আরোপ করতে পারে।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “পদ্মা ও মেঘনা নদীতে দুই মাসের জন্য সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে ছোট ইলিশ সংরক্ষণ করা যায়। জেলেদের জন্য ভিজিএফ ধান বিতরণ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। নদীতে অনৈতিক শিকারকারীদের প্রবেশ রোধে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সতর্ক করেছেন, “শুধু প্রশাসনিক তদারকি যথেষ্ট নয়। জেলেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে এই নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘমেয়াদি সুফল অর্জন সম্ভব নয়।”

চাঁদপুরের নদীমাতৃক অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোষফিকুর রহমান বলেন, “১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নদীতে টহল চলবে। সচেতনতা প্রচার ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কোনো আইন লঙ্ঘন বা ছোট ইলিশের ক্ষতি হতে দেয়া হবে না। আইন লঙ্ঘনকারীদের মৎস্য আইনের অধীনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই দুই মাসের মাছ শিকার নিষেধাজ্ঞাকে টেকসই ইলিশ সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশের নদী экোসিস্টেমের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এটি স্থানীয় জেলেদের জীবন-জীবিকা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।