পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ৩০১ কোটি ৪২ লাখ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন । দুপুরে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির এক ভার্চুয়ালি বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান গণমাধ্যমকে বলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ’ প্রকল্পে নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ আর্মি ইন অ্যাসোসিয়েশন উইথ বিআরটিসি, ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত বুয়েটকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত এই ব্যয় বাড়ানোর ক্রয় প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ৩০১ কোটি ৪২ লাখ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন
তিনি বলেন, ফলে মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়াল ১ হাজার ২৪২ কোটি ২৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। তবে মেয়াদ বাড়ানোর কারণেই এ ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।

ট্রেনটি ফরিদপুরের ভাঙ্গা প্রান্ত থেকে রওনা হয় দুপুর ১টা ২১ মিনিটে। এরপর প্রথম স্টেশন মালিগ্রাম সংলগ্ন বগাইলে পৌঁছায় ১টা ৪১ মিনিটে।
এসময় ট্রেনটির গতিবেগ ছিল গড়ে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার। পরে ২টা ১০ মিনিটে শিবচরের পদ্মা স্টেশন হয়ে ২টা ৪০ মিনিটে পদ্মা সেতুতে ওঠে ট্রেনটি। সেতুটি পার হতে ১৬ মিনিট সময় নেয় ট্রেনটি। সব মিলিয়ে ভাঙ্গা থেকে মাওয়া স্টেশন-এ ৪২ কিলোমিটার রেলপথে আসতে সময় লেগে যায় প্রায় দুই ঘণ্টা। এর আগে ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে ফিতা কেটে পরীক্ষামূলক বিশেষ এই ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
এ সময় মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি ৭৫ শতাংশের বেশি। আর পুরো প্রকল্পকে ঢাকা থেকে মাওয়ার অগ্রগতি ৭৪ শতাংশ, মাওয়া থেকে ভাঙ্গার অগ্রগতি ৯২ শতাংশ ও ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। তবে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার অংশে আগামী সেপ্টেম্বর যাত্রীবাহী রেল চলাচল করবে বলেও জানান তিনি।
২০২৪ এর জুনে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেল চলাচলের বিষয়টিও জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। লেভেল ক্রসিংবিহীন রেলপথে ৩২টি রেল কালভার্ট, ৩৭টি আন্ডারপাস ও ১৩টি রেল সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও সেতুটির দুই প্রান্তের রেল স্টেশনসহ নতুন ১৪টি ও পুরোনো ৬ টি স্টেশনের উন্নয়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী।

এদিকে মিয়ানমার হয়ে চীনের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে ট্রান্স-এশিয়ান রেল রুটের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর রেল রুটটিও।
উল্লেখ্য, এবারেই প্রথম পাথরবিহীন রেললাইন তৈরি হলো বাংলাদেশে। এর আগে ২০১৮ সালে পদ্মাসেতু ও এর দুই প্রান্তে রেললাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। জিটুজি (সরকারি পর্যায়ে) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করেছে চীন।