কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে শনিবার গভীর রাতে ঘটে এক ভয়াবহ রেলদুর্ঘটনা, যার ফলে কমপক্ষে ১২ জন যাত্রীর মৃত্যু এবং আরও ১০–১৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় ক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা গেটম্যান দায়িত্ব পালন না করায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন এই ক্রসিংয়ে চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ ঘটে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষীপুরগামী “মামুন স্পেশাল” পরিবহনের বাসটি রেলক্রসিংয়ে উঠার সময় গেট বন্ধ ছিল না। দুর্ঘটনার ফলে বাসের চালক ও যাত্রীদের মধ্যে হাহাকার সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং স্থানীয় মানুষ দ্রুত উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।
রেলের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট দুই গেটম্যান—মেহেদি হাসান ও হেলাল উদ্দিন—কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ও জোনাল পর্যায়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন সকাল ৮টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকাল ১০.৩০ মিনিটে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে সরানো হয়। ১১টার পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, আহতদের মধ্যে ১৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে ৫ জন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। জেলা প্রশাসন নিহতদের প্রতি ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।
নিহত ও আহতের প্রাথমিক তথ্য
| ক্রমিক | ঘাতপ্রাপ্ত | বয়স / লিঙ্গ | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| ১ | পুরুষ | বিভিন্ন | মৃত |
| ২ | পুরুষ | বিভিন্ন | মৃত |
| ৩ | পুরুষ | বিভিন্ন | মৃত |
| ৪ | পুরুষ | বিভিন্ন | মৃত |
| ৫ | পুরুষ | বিভিন্ন | মৃত |
| ৬ | পুরুষ | বিভিন্ন | মৃত |
| ৭ | মহিলা | বিভিন্ন | মৃত |
| ৮ | মহিলা | বিভিন্ন | মৃত |
| ৯ | শিশু | বিভিন্ন | মৃত |
| ১০ | শিশু | বিভিন্ন | মৃত |
| ১১ | শিশু | বিভিন্ন | মৃত |
| ১২ | শিশু | বিভিন্ন | মৃত |
| – | অন্যান্য | বিভিন্ন | আহত ১০–১৫ জন |
প্রাথমিক কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
পিবিআই ও স্থানীয় তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার মূল কারণ গেটম্যানের অবহেলা। স্থানীয় চা দোকানদারদের তথ্য অনুযায়ী, ক্রসিংয়ে সাধারণত দিনে-রাতে চারজন কর্মী দায়িত্ব পালন করেন, তবে দুর্ঘটনার রাতে কে দায়িত্বে ছিলেন তা নিশ্চিত নয়।
কুমিল্লা রেলওয়ে বিভাগের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, পদুয়ার বাজার ক্রসিং ব্যস্ততম হওয়ায় ২৪ ঘণ্টা রেলকর্মী দায়িত্বে থাকেন। তবে ওই রাতে ভুলবশত গেট খোলা থাকায় বাস ট্রেনে ধাক্কা খায়, যা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং রেললাইনের পাশে থাকা কর্মীদের কক্ষ তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দুর্ঘটনার রাতের গেটম্যানের দায়িত্বে অবহেলা রেল নিরাপত্তার তত্ত্বাবধানে বড় প্রশ্ন উঠিয়েছে।
