পদুয়ার বাজারে বাস–ট্রেন সংঘর্ষে ১২ নিহত

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে শনিবার (২১ মার্চ) গভীর রাতে ঘটে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে যাত্রারত মামুন পরিবহনের একটি বাস রাত ২টা ৫৫ মিনিটে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ঢুকে পড়ে। সেসময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে আসা মেইল ট্রেনের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলেই ১২ জন মারা যান এবং আহতদেরকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ শিশু রয়েছেন। বিশেষভাবে দুঃখজনক হলো লাইজু আক্তার (২৬) তার দুই কন্যা খাদিজা আক্তার (৬) ও মরিয়ম আক্তার (৪)–কে হারিয়েছেন। তারা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাসিন্দা।

নিহতদের পরিচয় নিচের টেবিলে দেখানো হলো:

নামবয়সপিতা/স্বামীঅঞ্চল
লাইজু আক্তার২৬ঝিনাইদহ মহেশপুর
খাদিজা আক্তারঝিনাইদহ মহেশপুর
মরিয়ম আক্তারঝিনাইদহ মহেশপুর
মো. বাবুল চৌধুরী৫৩সালামত উল্লাহনোয়াখালী সোনাইমুড়ী
নজরুল ইসলাম রায়হান৩৩মো. সেলিমসুধারাম থানা
তাজুল ইসলাম৬৮মোমিনুল হকচাঁদপুর কচুয়া
সায়েদামো. সিরাজুল দৌলালক্ষ্মীপুর সদর
মো. জোয়াদ বিশ্বাস২০মো. মোক্তার বিশ্বাসঝিনাইদহ সদর
ফসিয়ার রহমান২৬ওহাব শেখমাগুরা মোহাম্মদপুর
সোহেল রানা৪৬বিল্লাল হোসেনচুয়াডাঙ্গা জীবননগর
মো. সিরাজুল ইসলাম৬২ফকির চাঁদ বিশ্বাসযশোর চৌগাছা
কোহিনুর বেগম৫৫মো. সিরাজুল ইসলামযশোর চৌগাছা

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর হিমঘরের সামনে নিহতদের স্বজনরা লাশ গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রেলক্রসিং এলাকায় নিরাপত্তা ও সতর্কতার অভাবই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানে ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশেষভাবে দুর্ঘটনাস্থলে নিরাপদ রেলক্রসিং নিশ্চিতকরণ এবং যাত্রীবাহী যানবাহন ও ট্রেন চলাচলে সতর্কতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।

সামাজিক ও সংবাদমাধ্যমে এই দুর্ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। এই ভয়াবহ সংঘর্ষ কুমিল্লা ও সমগ্র দেশের মানুষকে গভীরভাবে শোকস্তব্ধ করেছে।