পদত্যাগ কার্যকর হলেও সরকারি সুযোগ ছাড়েননি ছাত্র প্রতিনিধি দুই উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার পরও সরকারি বাসভবনে অবস্থান করা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করাই যেখানে রাজনৈতিক শালীনতার অংশ, সেখানে তাঁদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন এই দুই ছাত্র প্রতিনিধি। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের পদত্যাগ কার্যকর হয়। এরপর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের সরকারি জীবন যেন পুরোপুরি শেষ হয়নি।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত কেউই বাসভবন ছাড়ার বিষয়ে কোনো আবেদন বা যোগাযোগ করেননি। এমনকি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে অবসর পরবর্তী বাসভবনে থাকার সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও উপদেষ্টাদের জন্য এমন কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই। এই নীতিগত দুর্বলতাই হয়তো বর্তমান পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল এই ধরনের স্পষ্ট নির্দেশনা আগেই নির্ধারণ করা।

আসিফ মাহমুদ ছিলেন স্থানীয় সরকার ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। ১৫ মাসের এই মেয়াদে তিনি সরাসরি মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে মাহফুজ আলম প্রথমে বিশেষ সহকারী, পরে তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর পরিচিতি বাড়ে ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী হওয়ার মাধ্যমে।

এই দুই নেতার অতীত ভূমিকা যতটা গৌরবের, বর্তমান অবস্থান ততটাই বিতর্কিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে জনগণ আরও বেশি নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করে।

এই ঘটনা ভবিষ্যতে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।