জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আজ থেকে তিনি পার্টির সব দায়িত্ব ও পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।
মুরসালীন বলেন, তিনি এনসিপিতে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি পার্টির মিডিয়া সেল, প্রচার ও প্রকাশনা সেলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং সম্প্রতি নির্বাচনকালীন মিডিয়া উপকমিটির সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পদত্যাগ সংক্রান্ত ভিডিও বার্তায় মুরসালীন বলেন, এনসিপির আত্মপ্রকাশের মূল লক্ষ্য ছিল নতুন সংবিধান ও নতুন রিপাবলিকের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “একাত্তরের পর থেকে বাংলাদেশে যে শাসন ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা দেখা গেছে, সেটি উপনিবেশিক সংস্কৃতির ছাপ রেখে গিয়েছে। আজকের শাসকেরাও সেই একই স্বৈরাচারী পথ অনুসরণ করছেন।”
মুরসালীন আরও বলেন, তার পরিবার থেকে প্রজন্ম ধরে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত। তার দাদাজান কবি খান মোহাম্মদ মইনুদ্দিন, কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে জেলে ছিলেন। তার বাবা সারাজীবন সাংবাদিকতা ও সাহিত্য কর্মের মাধ্যমে উপনিবেশিক শাসনবিরোধী ছিলেন। মুরসালীন নিজেও ১০ বছরের সাংবাদিকতা জীবন রাজনৈতিক সচেতনতা গঠনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
তিনি এনসিপির চলমান সিদ্ধান্ত এবং জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ সংক্রান্ত আপসকামিতার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মুরসালীন বলেন, “জনগণকে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীতে পরিণত করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে পার্টি দুর্বল হয়েছে এবং বিভিন্ন আপসকামিতায় বাধ্য হয়েছে।”
তবে মুরসালীন রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন না। তিনি জানান, “দীর্ঘ লড়াইয়ে জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে রাজপথে আবারও সক্রিয় থাকব। খুব শিগগিরিই দেখা হবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি থেকে অন্তত নয়জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক পদত্যাগকারীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | নেতা/নেত্রী | পদ | পদত্যাগের তারিখ |
|---|---|---|---|
| ১ | খান মুহাম্মদ মুরসালীন | যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক | ১ জানুয়ারি ২০২৬ |
| ২ | [নাম ২] | [পদ ২] | [তারিখ] |
| ৩ | [নাম ৩] | [পদ ৩] | [তারিখ] |
| ৪ | [নাম ৪] | [পদ ৪] | [তারিখ] |
| ৫ | [নাম ৫] | [পদ ৫] | [তারিখ] |
এ পদত্যাগ এনসিপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
