চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা এলাকার ১৫ নম্বর ঘাটে একটি মাছ ধরার নৌযানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। অভিযানে প্রায় পাঁচ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয় এবং এ ঘটনায় মোট নয়জন মাদক পরিবহন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী উপকূলীয় এলাকা থেকে স্বল্পমূল্যে ইয়াবা সংগ্রহ করে তা নৌপথে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, একটি মাছ ধরার নৌযানে করে বিপুল পরিমাণ মাদক শহরে আনা হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর পতেঙ্গা ঘাট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়।
অভিযানের সময় নৌযানটি ঘাটে ভিড়ার পরই সেখানে অবস্থান নেয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘিরে ফেলে। এ সময় নৌযানে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে নৌযানটি বিস্তারিতভাবে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় ইঞ্জিন কক্ষের পাশে বিশেষভাবে লুকানো তিনটি বড় বস্তার সন্ধান পাওয়া যায়। বস্তাগুলো খুলে দেখা যায়, ভেতরে অসংখ্য ছোট ছোট প্যাকেটে পলিথিন ও আঠালো টেপে মোড়ানো ইয়াবা রাখা ছিল। গণনা শেষে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ লাখ পিস, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় পনেরো কোটি টাকা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় অঞ্চলের কিছু অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে মাদক সংগ্রহ করে আসছিল। এরপর তা নৌপথ ব্যবহার করে শহরে এনে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। তারা নৌপথকে নিরাপদ মনে করে এই রুট ব্যবহার করছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত আছে তা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, এর পেছনে আরও বড় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকতে পারে।
গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| ক্রম | নাম | বয়স |
|---|---|---|
| ১ | সৈয়দ আলম | ৪৫ বছর |
| ২ | সুলতান আহম্মদ | ৫৫ বছর |
| ৩ | মোহাম্মদ ইউসুফ | ৪৫ বছর |
| ৪ | মোহাম্মদ কাসেম | ৩০ বছর |
| ৫ | মোহাম্মদ ইসমাইল | ৪০ বছর |
| ৬ | শাহ আলম | ৩৫ বছর |
| ৭ | আজম উল্লাহ | ৫৭ বছর |
| ৮ | মোহাম্মদ ফারুক | ২৫ বছর |
| ৯ | ছানাউল্লাহ | ৫৭ বছর |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, উপকূলীয় ও নৌপথ ব্যবহার করে মাদক পাচার রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সন্দেহজনক নৌযান ও উপকূলীয় গতিবিধির ওপর কঠোর পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় চালান প্রবেশ করতে না পারে।
