পটুয়াখালীর বদরপুর ইউনিয়নসহ জেলার ৩৫টি গ্রামে শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) আগাম ঈদ উদযাপনের আয়োজন করা হয়। সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের ঈদের এক দিন আগে এই গ্রামের প্রায় ১০০ পরিবার এবং আনুমানিক ২৫ হাজার মানুষ আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন।
ঈদের নামাজ ও আয়োজন
পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফে সকাল ৯টায় ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরীফ মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. শফিকুল আলম গনি। তিনি বলেন, হাদিস ও কোরআনে বর্ণিত আছে, যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা মাত্র মুসলমানরা ঈদ উদযাপন করতে পারেন। তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা ১৯২৮ সাল থেকে সহীহভাবে চাঁদ দেখা মাত্র ঈদ উদযাপন করে আসছি। আজকের নামাজের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেছি।”
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে ঈদের চাঁদ দেখা মাত্র ঈদ উদযাপন করেন এবং রোজা রাখেন এক দিন আগে। এই প্রথা কেবল ঈদুল ফিতরেই সীমাবদ্ধ নয়; ঈদুল আযহাও তারা এক দিন আগে পালন করেন।
ঈদের জামাতে উপস্থিত আব্দুর রহমান বলেন, “আমাদের পরিবার প্রায় একশ’ বছর ধরে এই নিয়মে ঈদ উদযাপন করে আসছে। আজও সবার জন্য সেমাই ও পায়েস রান্না করেছি। বন্ধু-বান্ধবরা আগ্রহ নিয়ে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুস সোবাহান বলেন, “আমাদের পীরসাহেবের নির্দেশক্রমে আমরা ঈদ উদযাপন করি। একদিন আগে রোজা রাখা ও আগাম ঈদ পালন আমাদের ঐতিহ্য।” জানা গেছে, আগাম ঈদ উদযাপনকারীরা হানিফি মাজহাব ও কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী।
উপজেলা ও গ্রাম অনুযায়ী ঈদের নামাজ আয়োজন
নিচের টেবিলে পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার গ্রামসমূহে ঈদের নামাজের আয়োজনের তথ্য তুলে ধরা হলো:
| উপজেলা | গ্রাম/মহল্লা |
|---|---|
| সদর | বদরপুর, ছোটবিঘাই |
| গলাচিপা | পশুরী বুনিয়া, সেনের হাওলা, কানকুনি পাড়া, মৌডুবি, নিজ হাওলা |
| বাউফল | রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, মদনপুরা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলা খালী, আমিরাবাদ, কনকদিয়া |
| কলাপাড়া | ইটবাড়ীয়া, নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া, দক্ষিণ দেবপুর |
স্থানীয়রা জানান, এই আগাম ঈদ উদযাপন প্রথা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। চাঁদ দেখা মাত্র ঈদ পালন মুসলমানদের মধ্যে একতা ও সামাজিক ঐক্যকে শক্তিশালী করে।
আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন। বিশেষ করে বদরপুর দরবার শরীফ মসজিদে নামাজের আয়োজন স্থানীয়দের মধ্যে সৌহার্দ্য, ঐক্য এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিচায়ক হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।
পটুয়াখালীর এই প্রথাগত আয়োজন প্রমাণ করে, এলাকার মানুষ তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জীবন্ত রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
