পটুয়াখালীতে পুকুরে পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবির (৪) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আঠখালী গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্র এবং পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আবির পানচাষি লতিফ হাওলাদারের একমাত্র ছেলে। শিশুটি পরিবারের সদস্যদের নজর এড়িয়ে একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরের দিকে চলে যায়। কিছু সময় পরে পরিবারের সদস্যরা আবিরকে দেখতে না পেয়ে তার খোঁজ শুরু করেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত আশেপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি চালানোর পর আবিরের চাচা আনিচ হাওলাদার পুকুরের পানিতে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গলাচিপা ৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তুষার আহমেদ জানান, “শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন। আমাদের পরীক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করেছে যে শিশুর মৃত্যু পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে হয়েছে।”

স্থানীয়রা জানান, আঠখালী গ্রামের পুকুরগুলো বেশ বড় এবং গভীর। শিশুদের জন্য নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি খুবই বেশি। বিশেষ করে ছোট শিশুরা যদি পুকুরের কাছে খেলা করে বা অনিরীক্ষিতভাবে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

শিশুর পরিবার বর্তমানে শোকাহত। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, আবির ছিল মিশুক এবং সকলের প্রিয়। তার আকস্মিক মৃত্যু তাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। স্থানীয়রা এবং গ্রামবাসীও এই দুর্ঘটনায় গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রামীণ এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় তত্ত্বাবধান জরুরি। পুকুর, খাল ও জলাশয়ে ছোট শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত বেড়া বা চিহ্নিত নিরাপদ জায়গার ব্যবস্থা করলে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হওয়ার জন্য বিশেষ সতর্কতা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে শীতকালীন সময়ে শিশুদের খোলা জায়গায় খেলা করার সময় অভিভাবকরা তাদের প্রতি বেশি নজর দিতে হবে।

এই ঘটনায় পরিবারের শোক ও স্থানীয় মানুষের দুঃখের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়—গ্রামীণ এলাকায় শিশুরা নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া কোনো স্থানেই একা রাখার সুযোগ থাকা উচিত নয়। পানিসম্পদ ও শিশু নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দিকে যথাযথ মনোযোগ দিলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।