পঞ্চব্রীহি ধান উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী, এক গাছে ৫ ফলন

পঞ্চব্রীহি ধান উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী, এক গাছে ৫ ফলন। সাধারণত একবার রোপণে ধান গাছে একবার ফলন হয়। কিন্তু ফলন শেষ হওয়ার পর একটি ধান গাছ পুরোপুরি না কেটে একই গাছে বিভিন্ন মৌসুমের উপযোগী আরও চার রকমের ধান কীভাবে উৎপাদন সম্ভব, তা আবিষ্কার করেছেন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী।

পঞ্চব্রীহি ধান উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী, এক গাছে ৫ ফলন

তিনি তার এ আবিষ্কারের নাম দিয়েছেন ‘পঞ্চব্রীহি’। আর এই ধান নিয়ে বৃহস্পতিবার লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাব ‘ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড হিউম্যান হেল্থ’ শিরোনামে এক মতবিনিময় সভায় আয়োজন করে। সেখানে সাংবাদিকদের তার আবিষ্কারের কথা জানান তিনি।

পঞ্চব্রীহি ধান উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী, এক গাছে ৫ ফলন

ড. আবেদ চৌধুরী জানান, এই নতুন ধান চাষ পদ্ধতি যদি সারাদেশের কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে আগামী পঞ্চাশ বছরের জন্য গোটা জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি জানান, সিলেটের একটি অঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে গবেষণা করেছেন। কোনো রাসায়নিক ছাড়াই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার প্রজাতির ধানের মিশ্রণ ঘটিয়ে তিনি পাঁচ রকমের ধান গাছ আবিষ্কার করেছেন। যা চাষের জন্য নতুন করে পাঁচ রকমের ধান গাছ রোপণ করতে হবে না। এতে কৃষকের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি সাশ্রয় হবে অর্থও। একইসঙ্গে একই জমিতে একই গাছে পাঁচ রকমের ধান উৎপাদনের ফলে দূর হবে দেশের খাদ্য সংকট।

ড. চৌধুরী বলেন, আমার এ আবিষ্কারের গবেষণাগার হলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত সিলেটের একটি গ্রাম, যে গ্রামে আমি বড় হয়েছি। সেখানে আমার গবেষণার সহযোগী ছিলেন সেসব নিরক্ষর কৃষক যাদের গায়ে লেগে থাকে বাংলার জল-কাদার গন্ধ। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ের গবেষণায় দিনরাত আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাদের বুকে মিশে আছে ধর্ম ও বিজ্ঞান।

এসব নিরক্ষর, সরলপ্রাণ, দেশপ্রেমিক কৃষককে সঙ্গে নিয়ে আমি বিশ্বকে উপহার দিতে চাই উৎপাদনের শ্রেষ্ঠতম বিজ্ঞান। আমি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমার আবিষ্কারকে ব্যবহার করতে চাই না। আমি চাই আমার এ আবিষ্কার দেশের মানুষের জীবনমান বদলে দিক। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক আমার মাতৃভূমির মানুষের জন্য।

Leave a Comment