ঢাকার ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে গ্যালারির উন্মাদনা ও মোহামেডানের জার্সি ছিল এক অপার আনন্দের উৎস। সেই আনন্দের মাঝের প্রাণশক্তি ছিলেন আতাউর রহমান, যাঁকে সবাই ‘আতা ভাই’ নামে জানত। মাঠের প্রতিটি চিৎকারে, সাদা-কালো পতাকার ঢেউতে এবং আবাহনীর সঙ্গে অনবদ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁর উপস্থিতি যেন এক বিশেষ ইতিহাস তৈরি করেছিল।
গতকাল রাতে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ৮০ বছর বয়সে ঢাকার টিকাটুলীর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন আতাউর রহমান।
১৯৬২ সালে মাত্র কিশোর বয়সে ঢাকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে পা রাখেন আতাউর। সেই সময় থেকেই তাঁর হৃদয় কেবল মোহামেডানের জন্যই ধুকপুক করত। ষাটের দশক থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত, তিনি একটিও ম্যাচ মিস করেননি। যদিও শরীর বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে ভেঙে পড়েছিল, কিন্তু তাঁর মনের উদ্দীপনা কখনও কমেনি।
মোহামেডান ও আবাহনীর মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাঁকে জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তুলেছিল। মাঠের বাইরে থেকেও তিনি যেন সাদা-কালোর এক অতন্দ্রপ্রহরী। শুধু মোহামেডানের নয়, তিনি ছিলেন পুরো বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতীক। তাঁর জীবনের দর্শন ছিল স্পষ্ট—জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, ফুটবলই ধর্ম।
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, আতাউরের পকেটে সব সময় একটি ছোট চিরকুট বা কার্ড থাকত, যাতে লেখা থাকত, “আমি মোহামেডানের সমর্থক”। এটিই তাঁর “পেশা” ছিল। শুধুমাত্র একটি পতাকা ও জার্সি ছিল তাঁর একমাত্র চাওয়া।
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | আতাউর রহমান |
| বয়স | ৮০+ বছর |
| প্রারম্ভিক গ্যালারি অভিজ্ঞতা | ১৯৬২, ঢাকা স্টেডিয়াম |
| প্রধান ক্লাব সমর্থন | মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব |
| অনুপস্থিত ম্যাচ | ১৯৬০-এর দশক থেকে ২০১৭ পর্যন্ত খুবই সীমিত |
| পরিচিত নাম | আতা ভাই |
| বিশেষত্ব | গ্যালারিতে সর্বদা সাদা-কালো পতাকা নিয়ে উপস্থিত থাকতেন |
| শেষকৃত্য | টিকাটুলী জামে মসজিদ, মোহামেডানের পতাকা দিয়ে কফিন ঢাকা হয়েছে |
আজকে তাঁর জানাজায় মোহামেডানের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন এবং তাঁর কফিনে ক্লাবের পতাকা জড়িয়েছেন। লোকমান হোসেন বলেন, “এমন নিখাদ ক্লাব–ভক্ত মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছে।”
ফুটবলের ‘আতা ভাই’ চলে গেলেও, জাতীয় স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণে তাঁর চিৎকার, উচ্ছ্বাস এবং সাদা-কালোর পতাকার ঢেউ চিরকাল প্রতিধ্বনিত হবে। বাংলাদেশের ফুটবলে আজ এমন নিঃস্বার্থ প্রেমিক এবং সমর্থক বিরল। তাঁর স্মৃতি প্রেরণার একটি চিরস্থায়ী প্রতীক হিসেবে ফুটবলের ইতিহাসে অম্লান থাকবে।
