নোয়াখালীতে চাঁদাবাজি: মাইকে ঘোষণা দিয়ে গণপিটুনি, যুবক নিহত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) এক যুবক ফখরুল ইসলাম ওরফে মঞ্জু (২৫) গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ধরার পর গণপিটুনিতে নিহত হন।

নিহত ফখরুল চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর হাজীপুর গ্রামের রোহন মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. রাশেদ জানিয়েছেন, ফখরুল একটি অটোরিকশার যাত্রীর কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হন এবং তাকে গণপিটুনিতে আহত করেন। পরে লাশ সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয় এবং পুলিশ তা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ওসি মোহাম্মদ আবদুল বারি জানিয়েছেন, ফখরুল এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ এ ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিহতের পরিবার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় ন্যায়বিচার এবং সামাজিক প্রতিরক্ষার সীমা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। গণপিটুনির মতো স্ব-নির্বাহী ন্যায়বিচার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপদ সমাজ রক্ষার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নিম্নে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়তথ্য
স্থাননোয়াখালী, বেগমগঞ্জ, হাজীপুর ইউনিয়ন
তারিখ৮ ডিসেম্বর (সোমবার)
নিহতফখরুল ইসলাম ওরফে মঞ্জু (২৫)
মৃতের ঠিকানাচৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড, পৌর হাজীপুর গ্রাম
হত্যার কারণচাঁদাবাজি অভিযোগ, গণপিটুনি
পুলিশ তথ্যচারটি মামলা, দুইটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
স্থানীয় পুলিশমো. রাশেদ
তদন্তকারী কর্মকর্তাওসি মোহাম্মদ আবদুল বারি
লাশ ব্যবস্থাপনামর্গে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ

স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনা স্থানীয় ন্যায়বিচার ব্যবস্থার সীমা এবং গণপিটুনির ঝুঁকি তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্ব-নির্বাহী ন্যায়বিচার এড়িয়ে নিরাপদ সমাজ গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।