নেপালের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচনা করতে চলেছেন র্যাপার থেকে রাজনীতিতে পা রাখা বালেন্দ্র শাহ। দেশের নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগোচ্ছে।
৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ, যিনি ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, গত বছরের সামাজিক আন্দোলনের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মের সমর্থন পেতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষত জেন-জি প্রজন্মের কাছে তিনি আশা ও পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, নেপালের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা নিম্নকক্ষে মোট ২৭৫টি আসন রয়েছে। প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী, বালেন্দ্র শাহের দল ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি আসনে জয়ী হয়েছে এবং অন্যান্য ৯৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ১১০টি আসনের ভোট গণনায়ও তার দল অর্ধেকের বেশি ভোট নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচনের অগ্রগতি সংক্রান্ত তথ্য নিম্নরূপ:
| আসন সংখ্যা | আরএসপি | নেপালি কংগ্রেস | সিপিএন-ইউএমএল | বাকী আসন |
|---|---|---|---|---|
| ঘোষিত ২৪টি | ১৮ | ৫ | ১ | ০ |
| গণনায় এগিয়ে ৯৯টি | ৯৯ | – | – | – |
| পিআর ১১০টি | অর্ধেকের বেশি | – | – | – |
কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টরাই এএফপিকে জানিয়েছেন, “প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি অনেক জায়গায় এগিয়ে এবং বেশ কয়েকটি আসনে জয়লাভ করেছে। ভোট গণনা সুষ্ঠুভাবে চলছে।”
যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে সাবেক মার্ক্সবাদী নেতা কেপি শর্মা ওলিকে হারিয়ে কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। এটি দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নাটকীয় এবং চরম প্রভাবশালী ঘটনা হবে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুতই দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে বড় বিক্ষোভে পরিণত হয়। ওই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন এবং কেপি শর্মা ওলির সরকার পতিত হয়। আন্দোলনের ছয় মাসের মধ্যেই দেশটি নতুন নির্বাচিত সরকার পেতে যাচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফলের পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা করতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবু শনিবার থেকেই কাঠমান্ডুর রাস্তায় বালেন্দ্র শাহের সমর্থকরা বিজয় উৎসব শুরু করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বালেন্দ্র শাহের এই সাফল্য হলো পুরোনো নেতৃত্বকে হারিয়ে তরুণ প্রজন্মের জয় ও পরিবর্তনের প্রতীক।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে ভোটে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বালেন্দ্র শাহ এবং নেপালি কংগ্রেসের নতুন নেতা গগন থাপার তুলনায় পিছিয়ে থাকা পরিস্থিতি, নেপালের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে।
