নেপালে নির্বাচন: শাহের জয়ের পাশে দখল রাখলেন দহল

নেপালের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধাক্কা লেগেছে। রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বিপুল ব্যবধানে জয়ের দিকে এগোচ্ছে, এবং ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভায় দলটি দুই-তৃতীয়াংশ আসন অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। এই নির্বাচনের ফলাফল প্রথাগত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্বকে ক্ষমতায় আনছে।

এর মধ্য দিয়ে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ। একসময় র‍্যাপার হিসেবে পরিচিত শাহ পরে রাজনীতিতে প্রবেশ করে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক জীবনের স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জেন-জি আন্দোলনের নেতৃত্বে আসনের দখল ও রাজনীতিতে নতুন ঢেউ এনেছেন।

গত বছরের জেন-জি অভ্যুত্থানের পর কে পি শর্মা অলির সরকার পতনের ফলে নেপালের রাজনীতিতে নতুন এক পরিবর্তনের বাতাস বইতে শুরু করে। বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে প্রথাগত বর্ষীয়ান ও প্রভাবশালী রাজনীতিকদের প্রতিরোধ ভেঙে পড়েছে। তবে এর ব্যতিক্রম হিসেবে টিকে গেছেন নেপালের ‘প্রচণ্ড’ খ্যাত পুষ্প কমল দহল।

পুষ্প কমল দহল, নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির (এনসিপি) নেতা, একসময় মাওবাদী গেরিলা নেতা হিসেবে দীর্ঘ এক দশক রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব তিনবার পালন করেছেন—২০০৮-২০০৯, ২০১৬-২০১৭ এবং ২০২২-২০২৪—এবং এবারের নির্বাচনে রুকুম ইস্ট আসন থেকে জয়ের ফলে তিনি টানা পঞ্চমবার পার্লামেন্টে স্থান করে নিলেন।

নেপালের প্রধান প্রভাবশালী নেতাদের নির্বাচনী ফলাফল নিম্নরূপ:

নেতারাজনৈতিক দলআসনফলাফলপরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী/দল
বালেন্দ্র শাহআরএসপিকাঠমান্ডু কেন্দ্রজয়
পুষ্প কমল দহলএনসিপিরুকুম ইস্টজয়
কে পি শর্মা অলিকমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালঝাপা-৫পরাজিতবালেন্দ্র শাহ/আরএসপি
গগন থাপানেপালি কংগ্রেসসারলাহি-৪পরাজিতঅমরেশ কুমার সিং/আরএসপি

জেন-জি আন্দোলনের ফলাফলের মাধ্যমে দেশটি রাজনৈতিক প্রাচীন প্যাটার্ন ভেঙে নতুন নেতৃত্বের দিকে এগোচ্ছে। যদিও শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের অনেকেই এবার হেরে গেছেন, পুষ্প কমল দহল প্রমাণ করেছেন যে জনসমর্থন এখনও শক্তিশালী। এই নির্বাচনের ফলাফলের আলোকে বলা যায়, নেপালের রাজনীতি এখন নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব, শাহের মতো তরুণদের হাত ধরে পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে।

নেপালের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে বদলে দিতে পারে। আরএসপি’র সফলতা দেশের অর্থনীতি, সামাজিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। নেপালের ভোটাররা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দিন, কিন্তু অভিজ্ঞতার মূল্যও অপরিসীম।

শাহের উদীয়মান নেতৃত্ব এবং দহলের অনবদ্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মিশ্রণ নেপালের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

কথায় আছে, পরিবর্তন বেগবান হয় যখন নতুন ও পুরাতন নেতৃত্ব একত্রে কাজ করে। নেপালের এই নির্বাচন সেটির এক সুস্পষ্ট উদাহরণ।