নেপালে নতুন সরকার, প্রাক্তন নেতাদের গ্রেপ্তার কার্যক্রম

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের শপথ গ্রহণের পরপরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার ভোরের দিকে রাজধানী কাঠমান্ডুর ভক্তপুর এলাকায় তাদের নিজ নিজ বাসভবন থেকে নেপালের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকাজটি নেপালের বিশেষ আদালতের সাবেক বিচারক গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী সাংবাদিকদের জানান, “গ্রেপ্তারকাজ সম্পূর্ণ আইনের প্রতি আনুগত্য রেখে পরিচালিত হয়েছে। আইন সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।”

২০২৫ সালের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি’র সরকারকে দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর সমালোচনা করা হয়। এই অভিযোগের প্রতিবাদে নেপালে ব্যাপক জনবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যা ‘জেন-জি বিক্ষোভ’ নামে পরিচিত। বিক্ষোভ দমন করতে প্রধানমন্ত্রী অলি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকও এই নির্দেশ বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

সেপ্টেম্বর মাসের সংঘর্ষের সময় ৮ ও ৯ তারিখে সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ হয়। দুই দিনেই কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ১৯ জন বিক্ষোভকারী এবং বাকিরা সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মী।

তারিখস্থাননিহত সংখ্যামন্তব্য
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫কাঠমান্ডু৩৫বিক্ষোভকারী ও সাধারণ নাগরিক নিহত
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫লালিতপুর৩৫পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে মৃত্যু
মোট৭০১৯ বিক্ষোভকারী, বাকিরা নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মী

অতি সংঘর্ষ এবং জনবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে কে পি শর্মা অলি পদত্যাগ করেন। রমেশ লেখক তার আগেই পদত্যাগ করেন।

অন্তর্বর্তী সরকার ও কমিশন

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের অধীনে প্রাক্তন সরকারের কর্মকাণ্ড তদন্তের জন্য সাবেক বিশেষ জজ গৌরী বাহাদুর কার্কিকে প্রধান করে একটি কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন জনবিক্ষোভ ও অভ্যুত্থান সম্পর্কিত ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

নতুন সরকারের সূচনা ও প্রতিশ্রুতি

৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হন বালেন্দ্র শাহ, যিনি ৩৫ বছরের বয়সেই নেপালের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতা।

গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বালেন্দ্র শাহ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরং মন্তব্য করেন, “এটি কোনো প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের বাস্তবায়ন। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম যে আইন সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে, এবং আমরা তা শুরু করেছি।”

নেপালের সাম্প্রতিক এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনগণের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।