নেপালের ধাদিংয়ে ভয়ঙ্কর বাস দুর্ঘটনা

নেপালের ধাদিং জেলায় সোমবার ভোরে একটি পর্যটকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২০০ মিটার গভীরে ত্রিশুলি নদীর তীরে পড়ে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে আন্তর্জাতিক নাগরিকও রয়েছেন, যা দুর্ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কমিউনিটির জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

পুলিশের মুখপাত্র অবিনারায়ণ কাফলে জানান, দুর্ঘটনার প্রাথমিক স্থানেই ১৭ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে একজন ২৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছে। আহত ২৫ জনের মধ্যে একজন চীনা এবং একজন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক রয়েছেন। আহতদের দ্রুত কাঠমান্ডুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।

ঘটনাটি ঘটে পোখরা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে যাত্রা করা বাসটি দুর্গম পাহাড়ি পথে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে নেমেছেন। ধাদিং জেলা, বিশেষত ত্রিশুলি নদীর তীর, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য পরিচিত। নেপালে পাহাড়ি রুটে দুর্ঘটনার ঘটনা তুলনামূলকভাবে সাধারণ, যেখানে সরু পথ, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও অভিজ্ঞ চালকের অভাব বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাহাড়ি রুটে পর্যটকবাহী গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বিশেষভাবে জরুরি। সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চালক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জরুরি উদ্ধার প্রটোকল বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

নেপালের এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো ২০২৪ সালে তানাহুন জেলার মার্স্যাংদি নদীতে একটি বাস দুর্ঘটনা, যেখানে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছিল। এ ধরনের পুনরাবৃত্তি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিচের টেবিলে দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়বস্তুসংখ্যা / বিবরণ
মোট আরোহী৪৪ জন (চালকসহ)
নিহত১৯ জন
নিহতদের মধ্যে ব্রিটিশ নাগরিক১ জন (২৪ বছর বয়সী)
আহত২৫ জন
আহতদের মধ্যে চীনা নাগরিক১ জন
আহতদের মধ্যে নিউজিল্যান্ড নাগরিক১ জন
দুর্ঘটনার স্থানধাদিং জেলা, ত্রিশুলি নদীর তীরে
বাসের প্রাথমিক যাত্রাপথপোখরা → কাঠমান্ডু
দুর্ঘটনার দূরত্ব নদী থেকে২০০ মিটার

নেপাল সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে তৎপর। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা, পর্যটকবাহী গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞ চালক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি পুনরায় সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক পর্যটক রুটগুলিতে এ ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হবে।

এ দুর্ঘটনা প্রমাণ করে, নেপালের পর্যটন রুটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা কার্যকর করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সঠিক পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।