মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক সফল অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ চারজন মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত ৩০ কেজি গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
Table of Contents
অভিযানের বিবরণ ও মাদক উদ্ধার
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়। কেন্দুয়া-আঠারবাড়ি সড়কের সান্দিকোনা ইউনিয়নের পেরীর মোড় এলাকায় একটি সন্দেহজনক সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আভিযানিক দলটি। তল্লাশির এক পর্যায়ে অটোরিকশার পেছনের ইঞ্জিনের পাশে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চার ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক | নাম | বয়স | গ্রাম ও উপজেলা | জেলা |
| ০১ | মো. কবির | ৩৪ বছর | চানপুর, বিজয়নগর | ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| ০২ | মো. সোহাগ মিয়া | ২৮ বছর | সোয়াবই, মাধবপুর | হবিগঞ্জ |
| ০৩ | মো. রিপন মিয়া | ৪০ বছর | ইসুলিয়া, গৌরীপুর | ময়মনসিংহ |
| ০৪ | মো. মনিরুল ইসলাম | ২২ বছর | গিলামোড়া, বিজয়নগর | ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
মাদক পাচারের রুট ও কৌশল
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটককৃত কারবারিরা বিভিন্ন জেলা থেকে মাদক সংগ্রহ করে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে সরবরাহ করত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো সাধারণ যানবাহনের ভেতর বিশেষ প্রকোষ্ঠ বা গোপন স্থান তৈরি করে মাদক বহন করত। উদ্ধারকৃত গাঁজাগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক বক্তব্য
এই ঘটনায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ধৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক জানান, জেলা জুড়ে মাদকের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটককৃতদের বুধবার সকালে নেত্রকোনা জেলা আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রয়োজনে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে এবং সরবরাহকারী ও অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উপসংহার ও সামাজিক উদ্বেগ
নেত্রকোনার মতো সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচারের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আটক বা মামলা দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি এবং জনসচেতনতা। কেন্দুয়ার পেরীর মোড় এলাকায় এই সফল অভিযান জেলা পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যের সক্ষমতা প্রমাণ করে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
